দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন কণ্ঠ—লাভ বাংলাদেশের ইফতার মাহফিলে মিজান চৌধুরীর দৃঢ় প্রত্যয়”

0
4

পবিত্র মাহে রমজানের স্নিগ্ধ পরিবেশে সামাজিক ন্যায়বিচার, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো লাভ বাংলাদেশ-এর ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে একত্রিত হয়েছিলেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। আর পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী, যিনি তাঁর বক্তব্যে অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা দেন।
শনিবার বিকাল ৪টায় নগরীর চকবাজার কুটুমবাড়ি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে লাভ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহানগর সভাপতি আব্দুল্লাহ মজুমদার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লাভ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক মো. কামাল উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এম এন মোস্তফা নূর, সাংবাদিক ওসমান জাহাঙ্গীর, ইতিহাসবিদ সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, সাংবাদিক মনির চৌধুরী, এডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল আলমসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শাহা জালাল। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন লাভ বাংলাদেশের বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা নূর মোহাম্মদ। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আব্রাহ হোসেন।
মিজান চৌধুরীর দৃঢ় বক্তব্য প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, লাভ বাংলাদেশ শুধু একটি সংগঠন নয়—এটি একটি নৈতিক আন্দোলন। এই আন্দোলনের লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, “দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সব সময় স্পষ্ট। বিগত সময়েও আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, ভবিষ্যতেও বলবো। কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করে নয়—সত্যের শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।” তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার ও সততা প্রতিষ্ঠিত হবে। মিজান চৌধুরী বলেন, সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, আইনজীবী এবং তরুণ প্রজন্ম যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। মো. কামাল উদ্দিনের বক্তব্য বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এই মাস মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকার অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হচ্ছে সমাজের সত্যকে তুলে ধরা। একজন সাংবাদিকের কলম কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে পারে না।” তিনি লাভ বাংলাদেশের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসবিদ সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিনের বক্তব্য ইতিহাসবিদ সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যখনই সমাজে অন্যায় বেড়েছে, তখন কিছু সাহসী মানুষ সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। তিনি বলেন,
“লাভ বাংলাদেশের এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এই ধরনের সামাজিক আন্দোলন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।” সাংবাদিক ওসমান জাহাঙ্গীরের বক্তব্য সাংবাদিক ওসমান জাহাঙ্গীর বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু খবর প্রকাশ করা নয়; বরং সমাজে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নেওয়া। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করলে সমাজে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। আইনজীবীদের বক্তব্য এডভোকেট এম এন মোস্তফা নূর বলেন, একটি সভ্য রাষ্ট্রের ভিত্তি হচ্ছে আইনের শাসন। আইন যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকটাই কমে যাবে। এডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনজীবী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সাংবাদিক মনির চৌধুরীর বক্তব্য
সাংবাদিক মনির চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে সৎ নেতৃত্ব এবং সাহসী উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি লাভ বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। সমাপনী পর্ব
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিরা একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন।এই আয়োজন শুধু একটি ইফতার মাহফিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি হয়ে ওঠে সত্য, ন্যায় ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক মিলনমেলা। আর সেই মিলনমেলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী, যার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে ন্যায় ও সত্যের অটল প্রত্যয়ের বার্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here