
ক্যারিবীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও বাদ দিচ্ছেন না। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় ও লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। তবে মাদুরোর অভিযোগ, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সামরিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সেনা পাঠানোর বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য— “না, আমি কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছি না।” আর মাদুরোর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, “হ্যাঁ, সম্ভবত কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি।” সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে মাদুরো কোনো প্রস্তাব দিলে তা বিবেচনা করতেও তিনি আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে আকর্ষণীয় কোনো প্রস্তাব পেলে তিনি উত্তেজনা কমানোর পথেও যেতে পারেন, যদিও তার প্রশাসন সংঘাত বাড়ানোর সুযোগও খোলা রেখেছে। কলম্বিয়ার “কোকেন কারখানা” ধ্বংসের ইচ্ছা প্রকাশ করা সত্ত্বেও ট্রাম্প দেশটিতে সরাসরি সামরিক অভিযানের কথা স্পষ্টভাবে জানাননি। আল-জাজিরার তথ্যমতে, কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অন্তত ২০টি হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রায় ৮০ জন নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত নৌযানগুলো সত্যিই মাদকবাহী ছিল কি না বা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল কি না— সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে এসব সামরিক অভিযানের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা না করায় অনেক বিশেষজ্ঞ একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলেই মন্তব্য করছেন।

