কলেজের ভবন দখল করে থাকছেন শিক্ষকরা, শ্রেণিকক্ষেই কোচিং বাণিজ্য

0
120

ফরিদপুরের সদরপুর সরকারি কলেজে একাধিক শিক্ষক একাডেমিক ভবনের কক্ষ দখল করে বসবাস করছেন, আর শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টার হিসেবে—এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে। তাদের দাবি, শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হন না, কিন্তু একই কক্ষে প্রাইভেট পড়াতে বেশ সক্রিয়। অভিভাবকদের অভিযোগ, কলেজে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক শিথিলতা। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি কার্যত ব্যক্তিগত মালিকানার মতো পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, একাডেমিক ভবনের কয়েকটি কক্ষকে ‘টিচার্স কোয়ার্টার’ বানিয়ে সেখানে থাকছেন কিছু শিক্ষক। এতে ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আরও গুরুতর বিষয় হলো—সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও শ্রেণিকক্ষ খুলে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাচ পরিচালনা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “স্যাররা ক্লাসে ঠিকমতো পড়ান না। কিন্তু প্রাইভেটে নিলে একই ক্লাসরুমে খুব যত্ন নিয়ে পড়ান। সরকারি ফ্যান, লাইট, বেঞ্চ ব্যবহার করে তারা ব্যক্তিগত ব্যবসা করছেন—এটা স্পষ্ট অনিয়ম।” কলেজ সূত্র জানায়, কলেজে প্রায় ৪০ শিক্ষক থাকলেও প্রতিদিন নিয়মিত উপস্থিত হন অর্ধেকেরও কম। এমনকি শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে চারজন ভলান্টিয়ার শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম (ছদ্মনাম) বলেন, “অনেক আশা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু এখানে দেখছি স্যারদের পড়ানোর চেয়ে ব্যবসার চিন্তা বেশি। একাডেমিক ভবনে স্যারদের থাকা—এটা কীভাবে নিয়ম হতে পারে? আমরা দ্রুত সমাধান চাই।” অভিভাবকদের ভাষ্য, সরকারি কলেজে সন্তান পাঠালেও পড়াশোনার পরিবেশ নেই। “শিক্ষকরা যদি ক্লাসে না এসে কোচিংয়ে মন দেন, তাহলে গরিব ছাত্ররা কোথায় যাবে? আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত চাই,” বলেন এক অভিভাবক। একাডেমিক ভবনে থাকা এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি কোয়ার্টার না থাকায় কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতিতে তারা সেখানে থাকছেন। তবে তাদের দাবি—এতে ক্লাসের ক্ষতি হয় না। এক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে কোচিং করানো বিষয়ে বলেন, “কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে অনেক আগে থেকেই আমরা অতিরিক্ত সময় দিচ্ছি। শিক্ষার্থীরাই চায়। একে ব্যবসা বলা ঠিক নয়।” কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক জানান, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন। একাডেমিক ভবনে শিক্ষকদের থাকা ও প্রতিষ্ঠানে কোচিং পরিচালনার বিষয়টি দীর্ঘদিনের চর্চা বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here