
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ৬ মাস ১০ দিন পর আবার উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে কারখানায় উৎপাদন শুরু হবে। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়। চলতি বছরের ১১ এপ্রিল গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন স্থগিত হয়েছিল। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান। কারখানা সচল থাকলে দৈনিক ১১ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব, যা মূল্য হিসাব করলে দৈনিক ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার সমান। এ ছাড়া প্রতিদিন ৮০০ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন হয়। কয়েক বছর ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং গ্যাস সরবরাহের সমস্যার কারণে সিইউএফএলের উৎপাদন নিয়মিত ছিল না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র ৫ দিন চালু ছিল। গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ থাকলেও তারপরও নানা যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বারবার বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ ১১ এপ্রিল উৎপাদন বন্ধ হয়। দেশে ইউরিয়ার বড় অংশ সিইউএফএল থেকে আসে, তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা সরকারের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যয় তৈরি করে। গ্যাস সরবরাহ চালু থাকলে কম খরচে সরকার লাভবান হবে। সিইউএফএলের এমডি মিজানুর রহমান জানান, গত রোববার গ্যাস পাওয়া যাওয়ায় কারখানার স্টার্টআপ শুরু হয়েছে। উৎপাদন চলাকালীন দৈনিক ৪৫–৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। আশা করা যাচ্ছে ২৯ বা ৩০ অক্টোবর থেকে উৎপাদন পুরোদমে শুরু হবে।উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর জাপানের কারিগরি সহায়তায় আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় কারখানাটি স্থাপিত হয়। চালু হওয়ার সময় দৈনিক ১,৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হতো, বর্তমান দৈনিক ক্ষমতা ১,১০০ টন। এ ছাড়া প্রতিদিন ৮০০ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম। এ বছর ২৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

