
চট্টগ্রামবাসীর খোলা চিঠি-
বরাবর-প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারম্যান বিএনপিঃ
মাননীয় জননেতা
তারেক রহমান,
সশ্রদ্ধ সালাম গ্রহণ করবেন।
চট্টগ্রামের রাজনীতি আজ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। শহর ও জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ, নিষ্ঠাবান এবং আদর্শিক নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছে। সেই প্রত্যাশার ধারাবাহিকতায় আমরা, চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকরা, আপনাকে আমাদের দৃঢ় অনুরোধ জানাচ্ছি—একজন পরীক্ষিত সংগঠক, নিবেদিত রাজনৈতিক কর্মী এবং সৎ আইনজ্ঞ, যিনি চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখতে পারেন। তিনি হলেন **অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহ।
অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহের রাজনৈতিক পথচলা কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নয়; এটি চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক আলোচিত অধ্যায়। আনোয়ারা উপজেলার গুয়াপঞ্চক গ্রামে জন্ম নেওয়া তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা। পরে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য, দপ্তর সম্পাদক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন।
মাঠভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দলীয় সূত্রের মতে, তাঁর রাজনৈতিক দর্শন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় প্রভাবিত, এবং খালেদা জিয়া-এর আপসহীন অবস্থান ও আপনার (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারম্যান হিসেবে) সাংগঠনিক কৌশলের প্রতি আনুগত্য তাঁর নীতি ও কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়।
রাজনীতির পথ সহজ ছিল না। গ্রেপ্তার, মামলা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতা—সবকিছুর মধ্য দিয়েও তিনি দলের আদর্শ ও নৈতিকতার প্রতি অটল থেকেছেন। ২০১৩ সালের ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার এবং ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশে যাওয়ার পথে আটক—সবই প্রমাণ করে, তিনি রাজনৈতিক সংগ্রামের একজন সৎ সৈনিক। তিনি নিজেও বারবার উল্লেখ করেছেন, “রাজনীতি আমার কাছে পদ বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয়; এটি আদর্শ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন।”
রাজনীতি ছাড়াও আইন পেশায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত উপস্থিতি, প্রস্তুতিমূলক যুক্তিতর্ক এবং অসচ্ছল মানুষের আইনি সহায়তায় ভূমিকা—সব মিলিয়ে তিনি একজন ন্যায়েরপক্ষের নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী, আইনের শাসন শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয় না।
নির্বাচনী রাজনীতিতেও তিনি দলের শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় উদাহরণ স্থাপন করেছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন। ২০২৬ সালেও একই অবস্থান রক্ষা করেছেন। এই দৃঢ়তা প্রমাণ করে, তিনি কেবল একজন সংগঠক নন, বরং দলের আদর্শ, শৃঙ্খলা এবং রাজনীতির নৈতিক মূল্যবোধেরও রক্ষাকর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারম্যান,
চট্টগ্রামের মানুষ চায়—যারা মাঠে থেকে সংগ্রাম করেছেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন এবং জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজে লাগুক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান বা সমমানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলে শহরের উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মাঠে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার সমন্বয় চট্টগ্রামের মানুষের জন্য একটি শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি। তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি চট্টগ্রামের জনগণের জন্য আদর্শিক ও দায়িত্বশীল সৈনিক।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, জনগণের আশা এবং সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় আমরা বিশ্বাস করি—আপনার সদয় দৃষ্টি ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁকে উপযুক্ত দায়িত্বে দেখা চট্টগ্রামের জন্য সেরা অনুকূল হবে।
চট্টগ্রামের মানুষ আপনাকে শুধু নেতা হিসেবেই নয়, বরং তাদের আস্থা ও প্রত্যাশার ধারক হিসেবেও দেখেন। তাই আমরা এই খোলা চিঠির মাধ্যমে বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি, অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দায়িত্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমন্বিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করুন।
চট্টগ্রামের জনগণের পক্ষ থেকে
শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও প্রত্যাশা সহ
চট্টগ্রামের আপামর জনগণ।

