
আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা বেড়েছে। ঝটিকা মিছিল, পেট্রোল বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে আগুন দেওয়ার মতো একের পর এক ঘটনায় আতঙ্কে রাজধানীবাসী। অনিশ্চয়তার কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুধবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে ঢাকার এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে গাজীপুর, মানিকগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও। এসব এলাকায়ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্থিতিশীলতার ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের আরও ৪৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণার পরই সারাদেশে সতর্কতা জারি করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা ভয়-আতঙ্ক তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হবে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলে মোটরসাইকেলে আসা চারজন দুটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। বুধবার দুপুরে মিরপুর-১ এ শতাব্দী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যায় দোলাইরপাড়েও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাতে তেজগাঁও রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত ট্রেনের একটি বগি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, এতে এক পথচারী আহত হন। একই রাতে কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝিগাতলায় এক যুবকের কাছ থেকে ককটেলসহ আটক করা হয়। মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে র্যাব উদ্ধার করে ছয়টি পেট্রোল বোমা ও চারটি ককটেল। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের গেটে তালা লাগানোর ঘটনাও ঘটে, এতে পাঁচ নিরাপত্তা প্রহরীকে বরখাস্ত করা হয়। রাজধানীর বাইরে গাজীপুর, আশুলিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায়ও একের পর এক অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটছে। গাজীপুরে তিনটি বাস, আশুলিয়ায় একটি বাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় আগুন দেওয়া হয়। শ্রীপুর, কাশিমপুর ও বাসন এলাকায়ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জে গত রাতে চলন্ত পিকআপ থেকে ককটেল ছুড়ে মারা হয়।তবে এই আতঙ্কের মধ্যেও ব্যবসায়ীরা দোকান ও বিপণিবিতান খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

