
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর)। ১৯৭৬ সালের এই দিনে রাজধানীর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা ও সন্তোষ—দুই স্থানেই নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। আজীবন অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় লড়ে গেছেন মওলানা ভাসানী। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া ছিল তার জীবনের মূলনীতি। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকেও কখনো ক্ষমতার মোহ তাকে প্রভাবিত করতে পারেনি। নির্মোহ, সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনই তার দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধের প্রতিফলন। শোষণমুক্ত, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে তিনি ছিলেন আজীবন নিবেদিত। বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশেও তিনি রেখেছেন গভীর ছাপ।মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বাণীতে বলেন, মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তার ভূমিকা ছিল প্রেরণাদায়ী। তিনি সর্বদা ছিলেন শোষণের বিরুদ্ধে, শোষিত মানুষের পক্ষে। তারেক রহমান আরও বলেন, মওলানা ভাসানীর নির্ভীক নেতৃত্ব দেশের মানুষকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সাহস জুগিয়েছে। তার কঠোর উচ্চারণে স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী কেঁপে উঠত। কঠিন সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় তিনি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। তিনি মওলানা ভাসানীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এ উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও পৃথক বাণী দিয়েছেন। ১৮৬০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মওলানা ভাসানী। যদিও জন্ম সিরাজগঞ্জে, জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। কৈশোর থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী। পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালের ২৪ জুন আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটে।

