
মৃত্যুর আগেই নিজের সম্ভাব্য হত্যার জন্য ১১ জনকে দায়ী করে একটি ভিডিও বার্তা রেখে গিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরে নিহত বিএনপি নেতা আবুল কালাম জহির। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার ব্যাপ্তি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে তিনি স্পষ্টভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এলাকায় ফিরলে তার ‘দুর্ঘটনা’ ঘটতে পারে—আর সে ঘটনার জন্য তিনি ১১ জনকে দায়ী করেন। ৩২ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে জহির বলেন, **‘আমি এলাকাতে যাওয়ার পরে যদি আমার মৃত্যুর মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তার জন্য প্রথমে দায়ী থাকবে আমার চাচাতো ভাই খোরশেদ, দ্বিতীয়ত ছোট কাউসার ও তাদের তিন ভাই। তৃতীয়ত শাহ আলম ও তার দুই ছেলে বাবু-ইমন, হর্দার বাড়ির স্বপন, এসপি বাড়ির আলমগীর ও সেলিম—এরা সবাই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে।’** স্থানীয় সূত্র জানায়, আবুল কালামের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা ছিল এবং এলাকায় আধিপত্য নিয়ে ছোট কাউসারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই কারণে তিনি কিছুদিন এলাকা ছাড়া ছিলেন। তবে এলাকায় ফেরার আগে তিনি ভিডিওটি রেকর্ড করে আত্মীয়দের কাছে পাঠান। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস আগের। হত্যার ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইমন হোসেন, আলমগীর হোসেন ও হুমায়ূন কবির সেলিমকে গ্রেপ্তার করে—যাদের নাম ভিডিও বার্তায়ও ছিল। অন্যদিকে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আইরিন আক্তার ১৭ নভেম্বর চন্দ্রগঞ্জ থানায় ১৩ জনের নামে হত্যা মামলা করেন, যেখানে ভিডিওতে উল্লেখিত সবাইকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে জহিরের চাচাতো ভাই **খোরশেদ আলম (৪৮)**-কে। দ্বিতীয় আসামি আলোচিত **কাউসার মানিক বাদল ওরফে ছোট কাউসার**। তার দুই ভাই **মিজানুর রহমান মল্লিক (৩০)** ও **শামসুল আলম মল্লিক ওরফে উকিল শামসু (৩৮)**-কেও আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা হলেন— শাহ আলম (৫০), রাহাত হোসেন বাবু (২৫), ইমন হোসেন (২২), স্বপন (৩০), আলমগীর হোসেন (৪০), হুমায়ুন কবির সেলিম (৫০), রিয়াজ ওরফে চিতা (৩৫), আজিম হোসেন হারুন (৩০) ও আবদুল খালেক (২৮)। চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ ফয়েজুল আজিম নোমান বলেন, ভিডিওতে উল্লেখিত ১১ জনই মামলার আসামি। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। পাশাপাশি কারা সরাসরি হত্যায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, ১৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে চন্দ্রগঞ্জের লতিফপুর এলাকায় মোস্তাফার দোকানের সামনে কুপিয়ে ও গুলি করে আবুল কালামকে হত্যা করা হয়। তার শরীরে চারটি গুলির চিহ্নসহ মাথা-মুখে ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের মনছুর আহমেদের ছেলে এবং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

