― Advertisement ―

প্রজ্ঞানন্দ স্মৃতি সংসদের বর্ষবরণ ও গুনীজন সংবর্ধনা সম্পন্ন

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে : রাউজান উপজেলার পুর্বআবুরখীল তালুকদারপাড়ায় অবস্থিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রজ্ঞানন্দ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে নববর্ষ বরণ, গুনীজন সংবর্ধনা ও...

যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের প্রতিবাদ মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ, প্রমাণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ-

Homeচট্টগ্রামযুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের প্রতিবাদ মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ...

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদ-এর নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা সংগঠনটির সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।
জানা যায়, গত ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ১৬ নম্বর পাতায় কক্সবাজার প্রতিনিধির পাঠানো একটি বিশেষ প্রতিবেদনে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। পত্রিকাটির সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদার-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে কক্সবাজার জেলা প্রতিবেদক মোঃ জসিম উদ্দিন-এর বরাতে সংগঠনটির নেতাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল— “কয়লা দুইলে ও ময়লা যায় না, এস.পি. আপেলের” এই প্রতিবেদনে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে “এসপি আপেলের লালিত-পালিত বাহিনী” হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলার অভিযোগ করা হয়। এমনকি তাদেরকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন। এদিকে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদ একটি অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোনো মামলা নেই। অথচ সংবাদে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।No photo description available.

এর মাধ্যমে একটি সামাজিক ও পেশাদার সংগঠনের সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেবেকা সুলতানা রেখা চৌধুরী-এর পক্ষে চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী সাইফুদ্দীন ছিদ্দিকী একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশটি দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৭ ও ২৮ ধারা এবং দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারার আওতায় অপরাধ করেছেন। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদনে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার স্বপক্ষে ৭ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সম্পাদক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, তারা সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী এবং সমাজের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের নৈতিক মান বজায় রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। তাদের দাবি, কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে সেই নীতি অনুসরণ করা হয়নি। ফলে একটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সংগঠনটির সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই স্বাধীনতার সঙ্গে রয়েছে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা জরুরি। অন্যথায় তা সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই, পেশাদারিত্ব এবং নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা না হলে গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।