চট্টগ্রামে বিদেশি মুদ্রা দেখিয়ে প্রতারণা: ওমানী বাইসা লোভে ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ, চকবাজার থানা পুলিশের অভিযানে প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

0
140

বিদেশি মুদ্রা ওমানী বাইসা দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতকারী প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চকবাজার থানা পুলিশ। অভিযানে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সিএনজি, ওমানী মুদ্রা এবং ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আত্মসাৎ করা নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বাদী সুমন কান্তি দাশ (৩৭) গত ২১ মে ২০২৫, বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে দামপাড়া পুলিশ লাইনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ওআর নিজাম রোডের এভিনিউ সেন্টারের সামনে পৌঁছালে একটি সিএনজি এসে তার পাশে দাঁড়ায়। সিএনজির চালক একটি ওমানী ১০০ বাইসার নোট দেখিয়ে তা ভাঙানোর জায়গা জানতে চায়। তখন হঠাৎ দুজন পথচারী সেজে এসে জানায়, কাছের একটি ব্যাংকে বাইসা ভাঙানো যাবে।

তারা একপ্রকার নাটক সাজিয়ে চালককে সেই ওমানী নোটের বিনিময়ে ৫,০০০ টাকা দিয়ে প্ররোচিত করে বাদীকে। প্রলোভনে পড়ে বাদীও প্রতারকচক্রকে ৫০,০০০ টাকা দেন, বিনিময়ে পান ১০টি ১০০ বাইসার নোট। পরে কাছের ওয়ান ব্যাংক জিইসি শাখায় গিয়ে জানতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই শাকিলুর রহমান এবং এসআই এনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান শুরু করে। ২৫ মে রাত ১টা ৩০ মিনিটে পাহাড়তলী থানার ফইল্লাতলী বাজারে সিএনজি গ্যারেজ থেকে প্রথম অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ রানা (৪৭) গ্রেফতার হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী রাত ৪টা ৫ মিনিটে আকবরশাহ থানা এলাকা থেকে মোঃ ইয়ার হোসেন ওরফে রানা (৪১) গ্রেফতার হয়।

পরবর্তী সময়ে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কোতোয়ালী থানার কোর্ট বিল্ডিং মোড় থেকে সিএনজি চালক জয়নাল আবেদীন (৪০) গ্রেফতার হয়। তার কাছ থেকে ১৭টি ১০০ বাইসার ওমানী নোট এবং ভুক্তভোগীর আত্মসাৎকৃত ২০,০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ডাবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ শিশু পার্ক এলাকা থেকে মোঃ জাহান খান ওরফে সুমন (৩৫) ও মোঃ জহিরুল ইসলাম ওরফে তপু (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, বিদেশ থেকে অবৈধভাবে ওমানী বাইসা এনে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করত। এ বিষয়ে বাদী চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর: ১৪, তারিখ ২৬/০৫/২০২৫, ধারা ৪০৬/৪২০ পেনাল কোড এবং স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট ১৯৭৪ এর ২৫(B)(1)(b) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়।

চকবাজার থানার এ সফল অভিযানকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং নগরবাসীকে এমন প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here