প্রতারকদের প্রতারণায় নিঃস্ব হচ্ছে নিরীহ মানুষ।

0
2

মো. কামাল উদ্দিন।
বিগত তিন বছর আগে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি ডলার প্রতারক চক্রকে আমি কৌশলে আমার অফিসে এনে গ্রেফতার করেছিলাম, এরপর গত কিছুদিন আগে রাঙুনিয়ার এক সেলিম নামে এক বিশ্ব বাটপারকে আমরা ভুক্তভোগীরা বেঁধে রেখেছিলাম সেই    চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার পরিচিত মানুষসহ বহু মানুষ থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে,
বাটপার সেলিম এখন আত্মগোপন করে আছে,তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারিত হওয়া বেকার যুবকরা একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছে।আমি নিজেই তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিয়েছি।এইধরনের বহু প্রতারককে আমি কোনো না কোনো ভাবে ঘায়েল করতে সক্ষম হয়েছি। আমার জীবনে আমি শত শত প্রতারকের বিরুদ্ধে লেখা লিখি করেছি এবং  তাঁদেরকে আইনের আওতায় এনেছি। এখন একটি প্রতারকের খোঁজ মিলেছে তার প্রতারণার কৌশল একটু ভিন্নধর্মী, তাকে সহজে কেউ প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবেনা, তার প্রতারণার বিষয়ে প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে, তার প্রতারণার প্রচুর পরিমাণ তথ্য আমার কাছে রক্ষিত আছে। আপাতত তার নাম প্রকাশ করছিনা। সেই একজন রহস্যময় মানুষ, তার প্রতরণায় কয়েকজন মানুষ সব কিছু না বুঝে সরলতা করে সহযোগিতা করার বিষয়ও দৃশ্যমান। তাঁর প্রতারণার বিষয়ে বিস্তারিত কয়েকদিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্তে নেমেছে। তার নাম এবং  প্রতারণার কৌশল আগেভাগে প্রকাশ হয়েগেলে সেই পালিয়ে যাওয়ার সম্ভনা রয়েছে। চলুন আসল কথা কথায় চলেযায়–
দেশে  যন্ত্রণার যেন শেষ নেই। রাস্তায় যন্ত্রণা, বাজারে বিড়ম্বনা, শব্দ ও পরিবেশ দূষণের অত্যাচার—এ নিয়েই বেঁচে আছে একসময়ের প্রাচ্যের ভেনিস হিসেবে পরিচিত আমাদের দেশ। এতসব যন্ত্রণার বৃত্তে আবার প্রতারকদের প্রতারণা যুক্ত হয়েয়েছে নতুন মাত্রা।পত্রিকার ভাষ্য মতে, প্রতারণার মাত্রা যেন আগের যেকোনো সময়কে অতিক্রম করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে পার পাওয়া গেলেও এ ক্ষেত্রে তার কোনো সুযোগ নেই। এখানে দুটি পক্ষ দ্বিপক্ষীয়ভাবে কাজটি সমাধা করে। প্রতারক পক্ষ কাজ শেষে চলে যাওয়ার পর প্রতারিত ব্যক্তি বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। তখন তার যেন আর কিছুই করার থাকে না।
প্রকৃত অর্থে লোভ মানুষকে এই পথে অনেকটা টেনে নামায়। প্রতারক নানামুখী টোপ গেঁথে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে তাদের পাতা ফাঁদে পড়তে বাধ্য করে। যারা ফাঁদে পড়েন, তাদের অসচেতনতাই তাদের এই পথে ধাবিত করে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে লোভ সংকবরণ ওসচেতনতা
বৃদ্ধিই পারে প্রতারকের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছিল, সরকারি চাকরি দেওয়া, কম দামে নিলামের পণ্য কিনতে সহায়তা, কম খরচে বিদেশে পাঠানোসহ নানা প্রলোভনের ফাঁদ পেতে নগরীর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। বেকারের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতারকের সংখ্যাও। এমনকি পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করেও চলছে প্রতারণা। বিশেষ করে চাকরিপ্রত্যাশীরা কর্মসংস্থানের আশায় প্রতারকদের নানা টোপ সহজেই গিলছেন।র‌্যাবের তথ্য মতে, প্রতারকরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তারা কখনো বিকাশ হেড অফিসের, কখনো সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে থাকে। গত কিছুদিন আগে রাতে র‌্যাব-৪-এর একটি দল কাফরুল থানার সেনপাড়ার পর্বতা আদর্শ রোডের একটি বাড়িতে অভিযান
চালিয়ে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত আটটি মোবাইল সেট ও ২৪টি সিম জব্দ করেছিল।
চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানের সাধারণ বিকাশ এজেন্টদের কাছ থেকে লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে। পরে ভুয়া নাম-ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহজ-সরল সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের বিকাশ হেড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে কৌশলে তাদের বিকাশ পিন কোড জেনে নেয়। স্মার্টফোনে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়।
তথ্য মতে, এ ধরনের প্রতারণা এখন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এর হাত থেকে রক্ষা পেতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন নিজেকে সংযত রাখা এবং কোনো ধরনের প্রলোভনে না পড়া। পাশাপাশি সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন করাই তাদের প্রধান কাজ। আর এজন্য প্রয়োজন ব্যাপক প্রচার। জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে একটি স্লোগান আপনার চারপাশে প্রতারক, আপনি সাবধান তো!অন্যকে ঠকানো, ধোঁকা দেওয়া, এবং বিশ্বাস ভঙ্গ করার নামই প্রতারণা। একটি পোকা যেমন ধীরে ধীরে সমস্ত ফসল নষ্ট করে দেয় ঠিক তেমনি একজন প্রতারক মিষ্টি ভাষায় মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তার জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। মানুষ তার সারা জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি স্থায়ী বাসস্থানের স্বপ্ন দেখে। শহরের বুকে এক টুকরো জমি বা ফ্ল্যাট কিনে তার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ছুটে যায় সেসব মানুষের কাছে যারা ফ্ল্যাট বা জমি কেনা বেচা করে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট বা জমি কেনার সময় প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধু বেশে শয়তান প্রতারক চক্র মানুষের স্বপ্ন পূরণের পথে কাঁটা ছড়িয়ে ছিনিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এরা সমাজ,
সংসার তথা মানবতার শত্রু। জমির অংশ বা ফ্ল্যাট বিক্রির নাম করে এরা সুকৌশলে মানুষকে কথার জালে ফেলে তার মন জয় করে। এরপর সুঁই হয়ে মানুষের মনের মধ্যে ঢুকে বেদনাদায়ক ফাল হয়ে বেরিয়ে যায়। এরা মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। জমির অংশ বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি দিয়ে একটা মোটা অংকের টাকা নেওয়ার পর বিক্রেতা এমন ভান করে যেন ক্রেতা তার থেকে দূরে থাকে। তখন তাকে জায়গার সমস্ত কাগজ পত্র বুঝিয়ে দিতেও নারাজ থাকে, অবহেলা করে। বেশি কিছু জানতে চাইলে তাকে সন্ত্রাসী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করে। সে তখন ফ্ল্যাট বা জমি কেনার আগে যে মিষ্টি ব্যবহার করে থাকে তা ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়ে যায়। তখন তার শয়তানের রূপ বেরিয়ে আসে। ক্রেতা তখন তার সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে ফ্ল্যাট বা জমি বুঝেও পায় না, হতাশায় ভোগে, বছরের পর বছর অপেক্ষায় থেকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। তাই এসব প্রতারকদের উৎখাত করতে হলে প্রশাসন ও জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। এদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে এবং আইনি ভাবে সব কাগজপত্র দেখে তবেই ফ্ল্যাট বা জমি কেনা উচিত। সর্বোপরি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে এসব প্রতারকদের প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব।
প্রতারক চেনার ৫ উপায়
কারও স্বভাবে প্রতারণা থাকলে তা একটা সময় প্রকাশ হবেই। কেউ কেউ হয়তো আর কোনো পথ না পেয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয়, কেউ আবার ইচ্ছাকৃতভাবেই এটি করে থাকে। এ ধরনের লোকেদের কখনো বিশ্বাস করা উচিত নয় এবং এদের থেকে সতর্ক থাকা জরুরি। জেনে নিন প্রতারক চেনার ৫ উপায়-
সুযোগসন্ধানী
এই ধরনের প্রতারক সক্রিয়ভাবে মানুষের সঙ্গে জড়িত থাকার চেষ্টা করে। তারা মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ খোঁজে। তারা অন্য কোথাও প্রেম খোঁজেন না, কিন্তু শুধু তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য সুযোগের খোঁজ করতে থাকে। তারা তোষামোদ করে এবং প্রয়োজনে তেল দিতেও পিছ পা হয় না। তারা সবসময় চারপাশে সুযোগ খুঁজতে থাকে।
চমৎকার ব্যক্তি
এই ধরনের প্রতারকেরা যার সাথে ফ্লার্ট করছে দ্রুত তার প্রশংসা করে। তাকে একজন খুব সুন্দর ব্যক্তি বলে মনে হবে যে সমস্যার কথা শোনে এবং সেসবের সমাধানের দিকেও খুব মনোযোগী হওয়ার ভান করে। এ ধরনের মানুষেরা সহায়ক হওয়ার ভান করলেও আপনার সবচেয়ে দুর্বল সময়ে আঘাত করার চেষ্টা করবে।
নিজেকে দুখী হিসেবে উপস্থান করা
এ ধরনের মানুষেরা সব সময় নিজেকে দরিদ্র, ভগ্ন হৃদয়ের ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে অন্যের সামনে উপস্থান করবে। তারা এমনভাবে নিজেকে দেখাবে যেন অন্যের স্নেহ আর ভালোবাসা তাদের খুবই প্রয়োজন। নিজের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরবে যেন মানুষেরা নিজ থেকে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু যে সত্যিকারের সংগ্রামী সে সারাক্ষণ নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা অন্যের কাছে বলে বেড়ায় না, বরং নিজের সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগী হয়।সুবিধাবাদী
এই ধরনের প্রতারকরা কোনো ধরনের সুবিধাই হাতছাড়া করতে চায় না। এরা অন্যের কথা বিন্দুমাত্র না ভেবে কেবল নিজের কথাই ভাবে। এরা প্রতিটি মুহূর্তে সুবিধার সন্ধান করে। নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে বিপদগ্রস্ত করতেও এরা পিছ পা হয় না।পেশাদার এই ধরনের প্রতারকেরা সবটাই করে জেনে-বুঝে। এরা প্রথমে ছক কষে, সেভাবে আগায়। তারা নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে ব্যবহার করে। এ ধরনের মানুষেরা কোনো কিছুর জন্য অনুশোচনা করে না এবং তাদের বিষয়গুলো চতুরতার সঙ্গে লুকিয়ে রাখতে পারে। আজ এই লেখাতে প্রতারক ও প্রতারণার একটু ধারণা দিয়েছি মাত্র- তবে এমন একজন প্রতারকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে তাঁর প্রতারণার নিউজ পড়লে সবাই অবাক হয়ে যাবে- তবে কেই সেই প্রতারক? বিস্তারিত লিখবো সেই রহস্যময় প্রতরাক পুরুষের কাহিনি, অপেক্ষা করুন দৈনিক সকালের সময়সহ একাধিক পত্রিকায় চোখ রাখুন।
লেখক সাংবাদিক, গবেষক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও মহাসচিব-চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here