ত্বকে যেসব পরিবর্তন দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি, হতে পারে হার্টের সমস্যা!

0
170

আমাদের হার্ট যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে তার প্রভাব শরীরের নানা অংশে পড়ে। এমনকি ত্বকেও দেখা দিতে পারে কিছু লক্ষণ। অনেক সময় আমরা এগুলো সাধারণ মনে করে এড়িয়ে যাই, কিন্তু এসব পরিবর্তন আসলে হতে পারে হৃদরোগের অজানা সংকেত। হার্টের অসুস্থতা আগে থেকেই চিহ্নিত করতে চাইলে এসব লক্ষণকে হালকাভাবে নেবেন না। চলুন জেনে নিই ত্বকে দেখা দেওয়া এমন কিছু পরিবর্তনের কথা, যেগুলো হার্টের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে— ১. পা বা গোঁড়ালিতে ফোলাভাব পা, গোঁড়ালি কিংবা পায়ের পাতায় হঠাৎ করে ফোলা ভাব দেখা গেলে সেটা হতে পারে হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারছে না—এই সমস্যার ইঙ্গিত। রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে শরীরের নিচের অংশে পানি জমতে থাকে, যা ফোলাভাব তৈরি করে। যদি এর সঙ্গে ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টও থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ২. ত্বকে নীলচে বা বেগুনি রঙ আপনার হাত বা পায়ের আঙুল যদি হঠাৎ করে নীল বা বেগুনি হয়ে যায় এবং গরম কাপড় বা ঘষলেও রঙ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে সেটা হতে পারে সায়ানোসিস নামের এক অবস্থা। এই অবস্থা তখনই হয়, যখন রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এটি হার্ট বা ফুসফুসের সমস্যার কারণে হতে পারে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসার দরকার হয়। ৩. পায়ে জালের মতো নীল বা বেগুনি দাগ আপনার পায়ে বা ত্বকের ওপর জালের মতো বেগুনি রঙের প্যাটার্ন দেখা গেলে সেটা হতে পারে কোলেস্টেরল এমবোলাইজেশন সিনড্রোম। এতে ছোট রক্তনালিগুলো ব্লক হয়ে যায়, ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এটা কোনো সাধারণ ফুসকুড়ি নয়, বরং তাৎক্ষণিক ডাক্তার দেখানো দরকার। ৪. নখের আকারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন (নখ ফুলে ওঠা) নখ যদি নিচের দিকে বাঁকতে থাকে বা আঙুলের ডগা ফুলে যায় (যাকে ক্লাবিং বলা হয়), তাহলে সেটা হতে পারে শরীরে দীর্ঘদিন অক্সিজেনের ঘাটতির ইঙ্গিত। এটি সাধারণত হার্ট বা ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ৫. নখের নিচে লাল বা বেগুনি রেখা নখের নিচে স্প্লিন্টারের মতো সরু লাল বা বেগুনি দাগ দেখা দিলে সেটাও হতে পারে সংক্রামক এন্ডোকার্ডাইটিস নামের এক ধরনের হৃদরোগের লক্ষণ। এই দাগের সঙ্গে জ্বর, ক্লান্তি থাকলে অবশ্যই অবহেলা না করে চিকিৎসা করান। পরামর্শ : এমন কিছু ত্বক-সংশ্লিষ্ট লক্ষণ দেখে ভয় না পেয়ে সচেতন হোন। নিয়মিত চেকআপ করুন, বিশেষ করে যদি আপনার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অতিরিক্ত ওজন থাকে। কারণ সময়মতো ধরা পড়লে হার্টের অনেক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here