**বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে কক্সবাজার রেলস্টেশন পরিচালনা**

0
129

দেশের প্রথম আন্তর্জাতিকমানের কক্সবাজার রেলস্টেশন উদ্বোধনের দুই বছর পেরোলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু হয়নি। বরাদ্দ বা ইজারা না দেওয়ায় স্টেশনের বহু স্থাপনা অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এত বড় স্টেশন নিজেদের ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর উদ্বোধনের পর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ও ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ নামে দুটি ট্রেন চলাচল করছে। কিন্তু স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনো বন্ধ। শুধু ইউটিলিটি খাতেই মাসে ১০–১২ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে রেলওয়ের হিসাব, যা তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। ফলে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছয়তলা এই আধুনিক স্টেশন ভবনটি কাচঘেরা স্থাপনা ও আইকনিক ছাদের কারণে দূর থেকেই চোখে পড়ে। প্রতিটি তলায় রয়েছে দোকান, ফুড কোর্ট, হোটেল রুম, অফিস স্পেস, রেস্টুরেন্ট ও মাল্টিপারপাস হলসহ নানা সুবিধা। কিন্তু বাস্তবে এসব সুবিধা এখনো চালু হয়নি। সরেজমিন দেখা গেছে, স্টেশনটি প্রায় ফাঁকা, এস্কেলেটর বন্ধ, নির্দেশনা বোর্ড অনুপস্থিত এবং টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে ইতোমধ্যে তিন দফা চিঠি চালাচালি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। পাঁচতারকা হোটেল পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নিতে পারবে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান চাইলে বিদেশি অংশীদার নিয়ে জয়েন্ট ভেঞ্চার হিসেবেও যোগ দিতে পারবে। রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা চাই, দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিদেশি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার রেলস্টেশন পরিচালনা করুক। দেশীয় প্রতিষ্ঠান যদি বিদেশি পার্টনার নেয়, তাও বিবেচনা করা হবে। দরপত্রের প্রস্তুতি চলছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই তা প্রকাশ করা হবে।” ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকার দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (CREC), চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (CCECC) এবং বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। বুয়েটের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “পরিকল্পনা ও পরিচালনার ঘাটতির কারণে কোটি কোটি টাকার এই স্টেশন এখন অব্যবহৃত পড়ে আছে। উদ্যোগ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা না থাকলে এমন অবচয়ই ঘটবে। বিদেশিদের ওপর নির্ভর না করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকেও সক্ষম করে তোলা জরুরি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here