**দুই ভাই হত্যার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন**

0
125

কক্সবাজারের রামুতে দুই সহোদর শিশুকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১:৩০ মিনিটে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক ওসমান গণি এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মীর মোশারফ হোসেন টিটু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—গর্জনিয়া বড়বিল এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, আবদু শুক্কুর, আলমগীর হোসেন প্রকাশ বুলু, মিজানুর রহমান এবং মো. শহীদুল্লাহ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—একই এলাকার আবদুল মজিদ বদাইয়া, ফাতেমা খাতুন, রাশেদা খাতুন ও লায়লা বেগম। রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তবে বাকিরা পলাতক রয়েছেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকেলে রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার দোকান কর্মচারী মো. ফোরকানের দুই ছেলে হাসান শাকিল (১০) ও হোসেন কাজল (৮) বাড়ির কাছাকাছি খেলছিল। পাখির ছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি চক্র তাদের অপহরণ করে। অপহরণের পরই রাতের ফোনে পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা যৌথভাবে আশেপাশের পাহাড়ি এলাকায় এবং আস্তানায় তল্লাশি চালায়। অপহরণ থেকে দুদিন পর, ১৯ জানুয়ারি রাতে স্থানীয় জালালের ফলের বাগান সংলগ্ন খালের পাড়ে দুই শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। শিশুর বাবা ফোরকান রামু থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে, পুলিশকে খবর না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়। প্রথমে মরদেহ বাড়িতে ড্রামে রাখা হয়েছিল, পরে খালের পাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পিপি মীর মোশারফ হোসেন টিটু বলেন, মামলাটি ৯ বছর ধরে বিচারাধীন ছিল। সাক্ষী ও প্রমাণাদি বিবেচনায় আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত আইন অনুযায়ী পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের জরিমানা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here