**‘মনস্টার মিসাইল’: কিম জং উনের কপালে নতুন শঙ্কার ছায়া**

0
137

ধোঁয়ায় ঢাকা আকাশে যে বিস্ফোরণের দানবীয় গর্জন কল্পনা করলেই রীতিমতো শিউরে ওঠে মানুষ—এমন এক ভয়ের অস্ত্র এবার তৈরি করছে দক্ষিণ কোরিয়া। নামকরণ করা হয়েছে ‘হিউনমু-৫’, কিন্তু জনমনে এটিকে বেশি পরিচিত ‘মনস্টার মিসাইল’ নামে। বছরের শেষের দিকে এই বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই হাতে নেওয়া হয়েছে। খবর প্রকাশের পর থেকেই কোরীয় উপদ্বীপের দুই প্রান্তে নতুন উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্রা ও ক্ষমতা যে কাউকে ভীত করবে। ওজন প্রায় ৩৬ টন, এবং এতে ৮ টন ওজনের ওয়ারহেড বহনযোগ্য—যা মাটির নিচে লুকানো শক্তিশালী বাঙ্কারও ধ্বংস করতে পারে। সামরিক সূত্র জানাচ্ছে, এটি মূলত ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য হলেও মোবাইল লঞ্চার থেকেও ছোঁড়া সম্ভব। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দিক হলো এর পাল্লা—লোডের ওপর নির্ভর করে ৬০০ কিলোমিটার থেকে ৫০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্য পৌঁছাতে সক্ষম। অর্থাৎ, উত্তর কোরিয়ার যে কোনো গোপন বাঙ্কার কিংবা এমনকি চীনের কিছু অঞ্চলও এর নাগালে। প্রকল্পের ধারণা আসে ২০১০ সালে, যখন উত্তর কোরিয়ার হামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। তখন থেকেই সিউল বুঝতে পেরেছিল, শুধুমাত্র মার্কিন পারমাণবিক ছাতার ওপর নির্ভর থাকা যথেষ্ট নয়। সিউলের আসান ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. ইয়াং উক বলেন, “আমাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তাই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত অস্ত্রই আমাদের একমাত্র বিকল্প।” মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন প্রকল্পটি আটকে থাকলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর সেই সীমা উঠে যাওয়ায় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। অবশেষে, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর দক্ষিণ কোরিয়া হাতে পাচ্ছে এমন একটি অস্ত্র যা চাইলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এটি কি সত্যিই যুদ্ধ ঠেকাবে, নাকি উল্টো উত্তেজনাকে আরও বাড়াবে? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পিয়ংইয়ং হয়তো এটিকে হালকাভাবে নেবে, কিন্তু অন্তরে ভয়টাই থেকে যাবে। কারণ, এই ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য পারমাণবিক কেন্দ্র নয়, বরং নেতৃত্বের আশ্রয়স্থল—অর্থাৎ কিম জং উনের সম্ভাব্য লুকোনো জায়গাগুলো। এই পরিস্থিতিতে কোরীয় উপদ্বীপ যেন আবার ঠান্ডা যুদ্ধের ছায়ায় ফিরে গেছে। দুই দেশের আকাশে শত্রুভাবাপন্ন দৃষ্টির বিনিময় চলছেই, আর সবাই চুপচাপ প্রশ্ন করছে—এই দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্র কি শান্তির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেবে, নাকি দুই দেশকে ভবিষ্যতে সকল হিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে শান্তির পথে হাঁটতে উৎসাহিত করবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here