
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সরকারি শাটডাউন শিগগিরই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় সোমবার (১০ নভেম্বর) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করেছে, যদিও বৈশ্বিক সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।এইদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৫ সেন্ট বা ০.৭১ শতাংশ বেড়ে ৬৪.০৮ ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪৮ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬০.২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রোববার মার্কিন সিনেট সরকার পুনরায় চালুর প্রস্তাবে ভোটের প্রস্তুতি নেয়, যা ৪০ দিনের দীর্ঘ শাটডাউন শেষ করার আশার সঙ্কেত দিচ্ছে। আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সরকারি কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে ৮ লাখ কর্মচারী বেতন পাবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু হবে। এতে ভোক্তা আস্থা ও ব্যয় বাড়বে, যা তেলের চাহিদা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। তিনি আরও বলেন, এটি বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়াবে এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল, যা টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের পতন। বিশ্লেষকরা অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কাকেই এ পতনের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। ওপেক প্লাস দেশগুলো ডিসেম্বরে সামান্য উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে প্রথম প্রান্তিকে নতুন কোনো বৃদ্ধি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে সরবরাহ অতিরিক্ত না হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুদ বেড়েছে এবং এশিয়ার সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের পরিমাণও দ্বিগুণ হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন ও ভারতের আমদানি কমেছে, যা চাহিদায় চাপ তৈরি করছে। ভারতের রিফাইনারিগুলো রাশিয়ার তেলের বদলে মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকার তেল আমদানি করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার তেল কোম্পানি লুকওইলও নতুন সমস্যায় পড়েছে। ২১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হওয়ার কারণে কোম্পানির বিক্রির পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাঙ্গেরিকে এক বছরের জন্য রাশিয়ার তেল আমদানি ছাড় দেওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
