কিশোরগঞ্জে হকার–দোকানদার উত্তেজনা: ফুটপাত উচ্ছেদের দাবিতে শাটডাউনে অচল শহর

0
125

কিশোরগঞ্জে হকার–দোকানদার বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করায় পুরো শহরে শাটডাউন পালিত হচ্ছে। ফুটপাত উচ্ছেদের দাবিতে রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকেই ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রধান সড়ক অবরোধ করেন, ফলে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। জনসাধারণ ও যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। শাটডাউনের অংশ হিসেবে রথখলা, তেরীপট্টি, কাচারীবাজার মোড়, বড় বাজার ও গৌরাঙ্গবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। দুপুরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ফুটপাতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের দাবিতে স্মারকলিপিও দেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে রথখলা এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ক্রেতা হকারের কাছ থেকে পণ্য নেওয়ার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ বিষয়ে পাশের দোকান ‘পাল ফেব্রিক্স’-এর মালিক শুভ্র কর হকারকে জিজ্ঞেস করলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। হকারদের হামলায় শুভ্র কর ও কর্মচারী আউয়াল মিয়া আহত হন। দ্রুত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতেই ব্যবসায়ীরা ফুটপাত উচ্ছেদের দাবিতে শাটডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যবসায়ী টুটুল মিয়া বলেন, “ফুটপাতজুড়ে হকারদের কারণে প্রতিদিনই যানজট হয়। ভিড়ের সুযোগে ছিনতাইও বেড়ে গেছে। দোকানদাররা কিছু বললে হকাররা হামলা করে।” জাহাঙ্গীর আলম হীরা অভিযোগ করেন, “হকারদের কারণে দোকানে প্রবেশ করাও কষ্টকর। তাদের বললে গালাগাল ও হুমকি দেয়। রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।” ব্যবসায়ী বিপ্লব সরকারের দাবি, “গত ৫ আগস্টের পর থেকে হকার সংখ্যা বেড়েছে। কোনো কথা বললেই হামলার ঘটনা ঘটে। পুরানথানা, বড় বাজার, গৌরাঙ্গবাজার, তেরীপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি দোকান রয়েছে—সবাই এখন ফুটপাত উচ্ছেদের দাবিতে এক হয়েছেন।” বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসাইন দিলু বলেন, “অবৈধ দোকান, ভ্যানগাড়ি এবং ফুটপাত দখলের কারণে বহুদিন ধরেই শহরে নৈরাজ্য চলছে। এগুলো উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।” কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শনিবারের ঘটনার কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here