
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশের একটি আদালত। দুদকের করা মামলায় শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের পর দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, তিনি আশা করেন এই রায়কে “যথাযোগ্য অবজ্ঞার সঙ্গেই দেখা হবে।” তিনি পুরো বিচারপ্রক্রিয়াকে “ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক” বলে আখ্যা দেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “এই তথাকথিত ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’-এর রায় যেমন পূর্বানুমেয় ছিল, তেমনই এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। আমার মূল মনোযোগ সবসময়ই হ্যাম্পস্টেড এবং হাইগেটের প্রতি—বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতিতে জড়াতে চাই না।” সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। দেশের আদালতে প্রথমবারের মতো কোনো ব্রিটিশ এমপির বিরুদ্ধে সাজা হলো। এর আগে ২৭ নভেম্বর প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড এবং তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে সাজা দেওয়া হয়। একই ধারাবাহিকতায় নতুন মামলায় সাজা পেলেন শেখ রেহানা ও তার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি রায় ঘোষণার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর খান মুহাম্মদ মইনুল হাসান জানান, সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিককে ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সাজা—যাবজ্জীবন—প্রত্যাশা করেছিলাম। রায় সে তুলনায় প্রত্যাশামতো হয়নি। দুদকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।” পিপি আরও জানান, যেসব দেশে আসামিরা অবস্থান করছেন, সেসব দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হবে। তার দাবি, টিউলিপ ফোন ও বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে প্লট বরাদ্দে শেখ হাসিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারীরাও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। “মামলার প্রমাণ আমরা উপস্থাপন করতে পেরেছি, যদিও প্রত্যাশিত সাজা হয়নি,” বলেন তিনি।
