শুঁটকির দুর্গন্ধে দুর্বিষহ জীবন, বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে নবীনপুর

0
122

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার নবীনপুর—একসময় শান্ত আবাসিক এলাকা—এখন শুঁটকি উৎপাদনের তীব্র গন্ধে নাজেহাল। কয়েকজন ব্যবসায়ী একরের পর একর জায়গা দখল করে খোলা জায়গায় কাঁচা মাছ শুকাচ্ছেন। এতে শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত এ কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, নবীনপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে মাচায় ছড়ানো কাঁচা মাছ শুকানোর কাজ চলছে। পাশেই রয়েছে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর উপাসনালয়—দুর্গন্ধে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছে এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, “দিন-রাত একই দুর্গন্ধ। ঘরে থেকেও নাক টেকে না। আমাদের ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কাজ চলতে পারে—বিষয়টাই ভাবা যায় না!” আরেক বাসিন্দা মন্নান জানান, “গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। মাথা ঘোরে, বমিভাব হয়। অনেক সময় ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। অভিযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি।” উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, “আবাসিক এলাকায় শুঁটকি তৈরি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেইনি। দ্রুত এগুলো উপকূলীয় অঞ্চল বা শিল্পাঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।” কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, “শুঁটকি শুকানোর জন্য আবাসিক এলাকায় কোনো অনুমতি নেই। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওসার হামিদ বলেন, “বিষয়টি জানা মাত্রই ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here