রাত জাগার অভ্যাস অজান্তেই ক্ষতি করছে শরীর, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

0
147

আধুনিক কর্মপরিবেশের কারণে অনেকেই রাত জেগে কাজ করা বা দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। বিশেষ করে ২৪ ঘণ্টা শিফটে কাজের ফলে রাতের কাজ এখন অনেকের জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে। তবে এই অভ্যাস শরীরের ওপর নীরব কিন্তু মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, সতর্ক করেছেন আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডা. ইলা গুপ্তা। তিনি বলেন, রাত জাগা বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্থিতি ও হরমোনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ডা. গুপ্তা জানান, মানুষের শরীর একটি নির্দিষ্ট ঘুমের ছন্দ অনুযায়ী কাজ করে। রাতে কাজ করলে এই ছন্দ ভেঙে যায়, হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে যায়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি মাসিক চক্রে সমস্যা, মেলাটোনিনের ঘাটতি এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের বৃদ্ধি ঘটায়। এর ফলে ডিম্বাণুর স্বাস্থ্য খারাপ হয় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব লক্ষ্য করা যায়; টেস্টোস্টেরন হ্রাসের ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমে যায়। অনেক দম্পতির কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকলেও রাত জাগা ও অনিয়মিত জীবনযাপন হতে পারে বন্ধ্যাত্বের একটি অপ্রকাশিত কারণ। রাত জাগার আরেকটি গুরুতর প্রভাব হলো মানসিক চাপ। গভীর রাতে কাজ করা ব্যক্তিদের শরীর ও মন সর্বদা চাপের মধ্যে থাকে। তারা ঠিকমতো খাবার খায় না, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করে এবং ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। মানসিক চাপ ও অপুষ্টি মিলিতভাবে প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া, ক্যারিয়ার গড়ার চাপের কারণে অনেক দম্পতি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ফার্টিলিটি স্বাভাবিকভাবেই কমে, আর রাত জাগার অভ্যাস এই সমস্যা আরও ত্বরান্বিত করে। ডা. ইলা গুপ্তা মনে করেন, যদিও কাজের সময়সূচি সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে জীবনধারায় পরিবর্তন আনা যায়। নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক রাখা, রাতের স্ক্রিন টাইম কমানো, সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা—এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, আজ সামান্য সচেতনতা নিলে আগামীতে জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here