দাম বাড়ছে লোকসানি কোম্পানির শেয়ার, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ল

0
135

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পুঁজিবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় সাধারণত নির্বাচনের আগে-পরে পুঁজিবাজার চাঙ্গাভাব থাকে। তবে আর্থিক খাতে লুটপাট ও দুর্নীতির ঘটনায় সতর্ক বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসছেন না। ফলে পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমেছে; মাত্র এক সপ্তাহে সূচক ১৪২ পয়েন্ট নেমেছে। দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দর হঠাৎ বেড়েছে, বন্ধ কোম্পানি থেকেও হঠাৎ দাম বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪১.৫৭ পয়েন্ট বা ২.৮২ শতাংশ কমেছে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩২.৬ পয়েন্ট বা ৩.০৩ শতাংশ কমেছে। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪২.৪৮ পয়েন্ট বা ২.২০ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৪৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩২৫টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ ৮৪.৮৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর পতন হয়েছে। পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও ডিএসইয়ের সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী জানান, বিগত সরকারের সময় ৫টি ব্যাংক ও ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা বিনিয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। ব্যাংকের সুদহার অপরিবর্তিত থাকলেও পুঁজিবাজারে গতিশীলতা নেই। বাজার বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, দাম বেড়েছে প্রধানত লোকসানি কোম্পানি ও উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার। শীর্ষে উঠে এসেছে জিলবাংলা সুগার মিলস, যার শেয়ারদর সপ্তাহজুড়ে ৬০.৩২ শতাংশ বেড়েছে। যদিও চলতি হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান ২৭ টাকা ৯১ পয়সা, আগের বছরের একই প্রান্তিকে ১৯ টাকা ৯৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১,১৬৭.১০ টাকা। কোম্পানি সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। এছাড়া পুঁজিবাজারে বিডি থাইফুডের শেয়ারদরও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যদিও প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও শেয়ারদর বাড়ছে। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা বিরাজ করছে এবং তারা বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কিত। বিদায়ী সপ্তাহে শেয়ারদর বেড়ার শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগই জেড ক্যাটাগরির বা দুর্বল মৌলিক কোম্পানি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, যার শেয়ারদর বেড়ে ৫৭.৫৫ শতাংশ হয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ, কেটিএল, কেপিপিএল, বিডি ওয়েল্ডিং, শেপার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ডিবিএইচ আইএসটি মিউচুয়াল ফান্ড ও তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ারদর যথাক্রমে ১৭.৬৬, ১৭.৩১, ১৩.৪১, ১২.৫০, ১২.১৭, ১০.৭১ এবং ৯.৮০ শতাংশ বেড়েছে। দরপতনের কারণে সপ্তাহের শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৪,৭৬২ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৬ লাখ ৯২,১৩৩ কোটি টাকার তুলনায় ৭,৩৭১ কোটি টাকা বা ১.০৭ শতাংশ কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here