চান্দ গাঁও থানার এলাকায়  মাদক ব্যবসায়ীদের নৃশংস হামলায় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

0
294

-মো.কামাল উদ্দিনঃ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর সকালে ইমন দাশের মৃত্যু, এখনো অধরা সব আসামি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি** চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভী বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীচক্রের পূর্বপরিকল্পিত নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত যুবক ইমন দাশ (২৪) দীর্ঘ ১৪ দিনের মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। অথচ ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কোনো আসামিকেই এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ—যা এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নিহতের পিতা সাগর দাশ (৪৫) চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকার লিগ্যাসি গার্মেন্টসে কর্মরত। তার ছেলে ইমন দাশের সঙ্গে প্রধান আসামি নয়ন মহাজনের পূর্ব পরিচয় ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নয়ন মহাজন ও তার সহযোগীরা ইমনকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভোরের নৃশংসতা: ফুল আনতে বেরিয়ে মৃত্যুর ফাঁদে-গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে, ইমন দাশ পূজার জন্য ফুল সংগ্রহ করতে বাসা থেকে বের হন। ভোর ৫টা ৫ মিনিটে, মৌলভী বাজার ওয়াসা রোডে মরিয়ম ক্লাবসংলগ্ন সেনদের বাড়ির সামনে পৌঁছালে নয়ন মহাজন, কিরণ, আবু হানিফ, মহিউদ্দিন শরীফ, মো. নেজামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জন দেশীয় অস্ত্র—কিরিচ ও ছাপাতি নিয়ে বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে ইমন দাশকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতরভাবে জখম করে। তার ডান হাতের তর্জনী, দুই হাতের তালু, ঠোঁটের নিচে গভীর কাটা ক্ষত সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বাম পায়ের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলে মারাত্মক জখম হয়। ধারালো অস্ত্রের উল্টো অংশ দিয়ে আঘাত করে তার দুই হাতের কবজি ও ডান পায়ের হাঁটুর নিচে হাড়ভাঙা জখম করা হয়। পরিবারকে মারধর, খুনের হুমকি- চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ইমনের পিতা সাগর দাশ ও মাতা তাপসী দাশ। তারা দেখতে পান—হামলাকারীরা ইমনকে মাটিতে ফেলে বুক, গলা ও পেটের ওপর পা চেপে ধরে নির্মমভাবে নির্যাতন করছে। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আসামি নয়ন মহাজন, কিরণ ও আবু হানিফ সাগর দাশকেও বেধড়ক মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়।স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা মামলা করলে পুরো পরিবারকে খুন করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। চিকিৎসা, আইসিইউ ও শেষ পরিণতি-স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত ইমন দাশকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় (রেজি: ৭৬২৯৬৩)। সেখানে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে চিকিৎসা চললেও তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় (রেজি: ৪৫২১/২৩, তারিখ: ০১/১২/২০২৫)। হাসপাতালের আইসিইউ-২ তে টানা চিকিৎসার পর অবশেষে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ-নিহতের চিকিৎসা ও পারিবারিক শোকের কারণে এজাহার দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হলেও অভিযোগ দায়েরের পরও একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হওয়ায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ দাবি- এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মৌলভী বাজার, চান্দগাঁও ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেবের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, “খুন হয়ে গেলেও যদি খুনিরা ধরা না পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার, মাদকচক্র নির্মূল এবং এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here