ফয়সালের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই

0
163

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফয়সাল দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই। রোববার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ফয়সালের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। তবে অপরাধীদের অবস্থান নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, হাদি হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ফয়সালের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তবে তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও ব্যক্তিগত শত্রুতার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ডিবি প্রধান জানান, হাদি হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, অস্ত্র, গুলি ও পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে রোববার দুপুরে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শফিকুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও তার সহযোগীরা ভারতে পালিয়ে গেছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, গত আট দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। গ্রেপ্তারদের মধ্যে হুমায়ুন কবির ও হাসি বেগম আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড শেষে নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here