ওসি আফতাব উদ্দিনের দৃঢ় নেতৃত্বে কোতোয়ালী থানার নজিরবিহীন সাফল্য চুরি হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, পেশাদার গাড়ি চোর চক্রের দুই মূল হোতা গ্রেপ্তার

0
291

চট্টগ্রাম মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোতোয়ালী থানা এখন যেন আস্থার প্রতীক। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর নেতৃত্বের সমন্বয়ে আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতাব উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধারসহ পেশাদার গাড়ি চোর চক্রের দুইজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ রাতে। মামলার বাদী ডা. কামরুদ্দিন চৌধুরী (৪৭), পেশায় একজন চিকিৎসক, ওইদিন রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটের মূল ফটকের সামনে পাকা রাস্তার ওপর তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার (রেজি: চট্ট মেট্রো-খ-১১-২০৭৫) পার্ক করে চালকসহ ভেতরে প্রবেশ করেন। কাজ শেষে প্রায় ২৫ মিনিট পর রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, তার গাড়িটি ঘটনাস্থলে নেই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়—গাড়িটি চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নং-৪৫ (তারিখ: ২৮/১২/২০২৫), ধারা-৩৭৯ পেনাল কোড রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিরস্ত্র) শরীফ উদ্দিনকে। তদন্তের শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন তিনি। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দ্রুতই বেরিয়ে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—চোরচক্র গাড়িটি নিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে কক্সবাজারের দিকে অগ্রসর হয়েছে। বিষয়টি অবহিত করা হলে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), সিএমপি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এসি কোতোয়ালী জোনের তত্ত্বাবধানে এবং ওসি আফতাব উদ্দিনের সুস্পষ্ট নেতৃত্বে কোতোয়ালী থানার একটি চৌকস আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজারে রওনা হয়। বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানাধীন মেরিন ড্রাইভ রোড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সানড্যান্সার রেস্টুরেন্টের পাশের একটি খালি জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়—মো. রাসেল (৩৫)মো. হোসাইন প্রকাশ আহম্মদ হোছাইন (৪৩)গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া সাদা রঙের X Corolla Assista মডেলের প্রাইভেটকার, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত দুটি মাস্টার কী (চাবি)। উদ্ধারকৃত আলামত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে যে, তারা একটি সংঘবদ্ধ ও পেশাদার গাড়ি চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে প্রাইভেটকার চুরি করে বিক্রি করে আসছিল। ঘটনার দিন গাড়িটি চুরি করে প্রথমে কক্সবাজারের রামু থানাধীন পানিরছড়া এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরদিন বিক্রির উদ্দেশ্যে মেরিন ড্রাইভ এলাকায় আনা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের তৎপরতায় ঘটনাস্থলেই তাদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেলের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানাসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক গাড়ি চুরির মামলা রয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে একটি প্রাইভেটকার ও দুইটি মাস্টার কীসহ তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নগরবাসীর মতে, ওসি আফতাব উদ্দিনের সাহসী, সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ নেতৃত্বেই কোতোয়ালী থানা এলাকায় অপরাধ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে। গাড়ি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের এই সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ আরও জোরদার করছে। কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এই পেশাদার চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করল—দৃঢ় নেতৃত্ব, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং দক্ষ মাঠপর্যায়ের পুলিশিং থাকলে অপরাধীরা কোনোভাবেই আইনের হাত এড়িয়ে যেতে পারে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here