
ডেস্কঃ চট্টগ্রাম মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে কোতোয়ালী থানার পুলিশ আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ একটি সন্ত্রাসী চক্রের দুইজন প্রধান আসামিসহ মোট সাতজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন সাইজের তিনটি স্টীলের ছোরা ও একটি স্টীলের কেচি উদ্ধার করা হয়। এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয় সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) জনাব হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ)-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে। মাঠপর্যায়ে পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আফতাব উদ্দিন। তার প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এসআই মোঃ আবু সাঈদ রানা সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে অভিযানটি বাস্তবায়ন করেন। গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে, কোতোয়ালী থানাধীন পলোগ্রাউন্ড এলাকার রেলওয়ে জামে মসজিদের মূল ফটকের সামনে পাকা রাস্তার ওপর একদল সন্ত্রাসী ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও কৌশলী ঘেরাওয়ের মাধ্যমে সবাইকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন ১. মোঃ আলাউদ্দিন (৩০) ২. মোঃ রমজান হোসেন রুবেল ওরফে দাইত্যা রুবেল (৩২) ৩. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ৪. জাহিদুল ইসলাম (২৭) ৫. মোঃ শান্ত (১৯) ৬. মোঃ মঞ্জুর আলম (৩০) ৭. মোঃ শরীফ (৩০) অস্ত্র উদ্ধার ও মামলা রুজু গ্রেফতারের পর আসামিদের দেহ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বহন করা ৩টি স্টীলের ছোরা ও ১টি স্টীলের কেচি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত আইনানুগভাবে জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা নং–০৩, তারিখ ০২/০১/২০২৬ খ্রি., পেনাল কোডের ৩৯৯/৪০২ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পেশাদার অপরাধী চক্র পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা সহ একাধিক পূর্ববর্তী মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না—সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ওসির নেতৃত্বে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফতাব উদ্দিন বলেন, “নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কোতোয়ালী থানা এলাকায় কোনো ধরনের ডাকাতি, ছিনতাই বা সন্ত্রাসী তৎপরতার সুযোগ দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা কোতোয়ালী থানার এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ওসি মোঃ আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে কোতোয়ালী থানা অপরাধ দমনে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জোরদার করছে।

