চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ১০ মাঘের ওরশ মাহফিল: গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) ও শাহ সুফি আল-ফারুকী (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক জ্যোতি উদযাপন

0
15

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে শনিবার বিকেল ৪ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হলো ১০ মাঘ ওরশ শরীফ উপলক্ষে এক অনন্য আধ্যাত্মিক সেমিনার। শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.) মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মাইজভান্ডারী দরবারের আধ্যাত্মিক ইতিহাস, তাসাউফের অনন্য দিক এবং শাহ সুফি শেখ অছিয়র রহমান আল-ফারুকী (ক.)-এর আত্মিক অবদানের ওপর আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। সেমিনারের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—“গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) কর্তৃক হযরতুল আল্লামা শাহ সুফি শেখ অছিয়র রহমান আল-ফারুকী (ক.)-কে প্রদত্ত বেলায়াতে ওজমার শ্রেষ্ঠ নিয়ামত প্রাপ্তির আকৃতি ও প্রকৃতিতে অবয়ব সাদৃশ্যের ঐতিহাসিক অধ্যায়।” এই শিরোনামের মধ্য দিয়ে আলোচকগণ হেজরত গাউছুল আজম (ক.)-এর বেলায়াতের তাৎপর্য, দরবারের ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক শিক্ষার গুরুত্ব এবং সেই শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ ও ব্যক্তির জীবনে যে নৈতিক ও আত্মিক প্রভাব পড়ে, তা বিশদভাবে উপস্থাপন করেন। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন পীরে তরীকত হযরতুল হজ্ব শাহ সুফি শেখ আবু মুহাম্মদ ফারুকী (ম.), যিনি বক্তৃতা ও পরিচালনায় অংশগ্রহণকারীদের আধ্যাত্মিক উজ্জীবনে অনুপ্রাণিত করেন। সঞ্চালনা ও সম্পাদনায় ছিলেন শেখ আবু মুহাম্মদ সানাউল্লাহ ফারুকী (ম.)।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বগণ— প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, অধ্যাপক, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, যিনি গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর আধ্যাত্মিক ধারার বৈজ্ঞানিক দিক এবং প্রাচীন ঐতিহাসিক প্রমাণ তুলে ধরেন; মাওলানা মুহাম্মাদ মঈনুদ্দিন নূরী আল-কুরাইশী (ম.), যিনি তাসাউফের নৈতিক শিক্ষার মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক দিক বিশ্লেষণ করেন; মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম বারী (ম.), যিনি আত্মিক অনুশীলন ও দরবারের ধারাবাহিক শিক্ষার প্রয়োগিক দিক তুলে ধরেন; ড. আল্লামা আবুল ফাহাত মুহাম্মাদ মহিউদ্দিন, যিনি শাহ সুফি শেখ অছিয়র রহমান আল-ফারুকী (ক.)-এর আধ্যাত্মিক অবদানের ইতিহাসিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন;
ড. মুহাম্মাদ নুরুন্নবী আযহারী, যিনি দরবারের আধ্যাত্মিক শিক্ষার সাম্প্রতিক প্রভাব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ব্যাখ্যা করেন;
মুফতি সালাহউদ্দিন তাইফুর, যিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞান, বেলায়াত ও সমাজকল্যাণমূলক শিক্ষা সম্পর্কিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
আলোচকগণ প্রতিটি বক্তৃতায় তুলে ধরেন, কিভাবে মাইজভান্ডারী দরবারের ধারাবাহিকতা ও বেলায়াতের শিক্ষা বর্তমান প্রজন্মের জন্যও নৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রেরণার উৎস। গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.)-এর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক অবদান এবং শাহ সুফি শেখ অছিয়র রহমান আল-ফারুকী (ক.)-এর আত্মিক দৃষ্টি সমাজ ও ব্যক্তি জীবনের নানাবিধ ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে।  সেমিনারের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন গাউছিয়া রহমানিয়া সংসদ, চট্টগ্রাম মহানগর, যারা চট্টগ্রামের আধ্যাত্মিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। অনুষ্ঠানটি শুধু আধ্যাত্মিক শিক্ষার আলোকে সমাজকে উদ্দীপ্ত করেনি, বরং দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের অন্তরে আধ্যাত্মিক অনুশীলন, ধৈর্য, এবং মানবিকতার মূল্যবোধকে গভীরভাবে প্রোথিত করেছে। উক্ত সেমিনার অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকেই একমত ছিলেন, এই ধরনের আধ্যাত্মিক আয়োজন বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনন্য শিক্ষা এবং সামাজিক জীবনে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের সংরক্ষক। ১০ মাঘ ওরশের বিশেষ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাইজভান্ডারী দরবারের আধ্যাত্মিক শিক্ষা, বেলায়াত ও তাসাউফের ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছে আরও সমৃদ্ধভাবে পৌঁছানোর পথ সুগম করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here