মানবিকতার উষ্ণতায় ফুলের হাসি স্কুল : “বয়স্ক শিক্ষার্থীদের পাশে রবি চৌধুরী ও ফুলের হাসি ফাউন্ডেশন-

0
286

-চট্রলচিত্র ডেস্কঃ
মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আজ ফুলের হাসি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফুলের হাসি স্কুলের বয়স্ক শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র ও উপহার সামগ্রী বিতরণ এবং এক হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শীতের কনকনে ঠান্ডায় যখন অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো নীরবে কষ্ট সহ্য করে, ঠিক তখনই এই আয়োজন যেন তাদের জীবনে উষ্ণতার ছোঁয়া এনে দেয়।  অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ফুলের হাসি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান তসলিম হাসান হৃদয়ের সভাপতিত্বে। সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত এই আয়োজন সঞ্চালনা করেন ফুলের হাসি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবরিনা আফরোজা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী, যাঁর উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশেষ অনুপ্রেরণা ও আনন্দের আবহ সৃষ্টি করে। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক আরিফ আমান ভুইয়া। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদার তেরেসা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মতিউর রহমান সৌরভ, হোপ রাইজ স্কুলের চেয়ারম্যান ফয়সাল মুন, সমাজকর্মী মো. কামাল হোসেন, বায়েজিদ ফরায়েজি। মিডিয়া অঙ্গনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রফিকুল ইসলাম, নয়ন খান, সুমন চৌধুরী, মিম আক্তার, হৈমন্তীসহ আরও অনেকে। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী বলেন, “এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে অত্যন্ত প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে একটু করে এগিয়ে আসেন, তবে দারিদ্র্য ও অসহায়ত্ব অনেকটাই কমে যাবে। ছোট ছোট কর্মসূচির মাধ্যমেও বড় মানবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিশেষ করে আগামীর নতুন প্রজন্মকে যদি মানবিক, সৎ ও উদার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে এই সমাজ একদিন অবশ্যই বদলাবে এবং অসহায় মানুষের মুখে প্রকৃত হাসি ফুটবে।” প্রধান আলোচক আরিফ আমান ভুইয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাদের জীবনযাত্রাকে সচল রাখে, কিন্তু সমাজকে আলোকিত করে নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক শিক্ষা। এসব মূল্যবোধ ছাড়া শুধু ডিগ্রি অর্জন করে সমাজ সংস্কার সম্ভব নয়। প্রতিটি পরিবার থেকেই মানবাধিকারের চর্চা ও নিশ্চয়তা শুরু হওয়া দরকার। মানবতার প্রশ্নে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসতে হবে—এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।” অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান কামরুল কায়েসের পক্ষ থেকে স্বাবলম্বী প্রকল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার লক্ষ্যে কয়েকটি অসহায় পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগ উপস্থিত সবার মাঝে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দেয় এবং আত্মনির্ভরশীলতার বার্তা পৌঁছে দেয়। সভাপতির বক্তব্যে তসলিম হাসান হৃদয় বলেন, “অসহায় ও দুঃস্থ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। আমরা চাই এই শিক্ষার্থীরা শুধু শীতবস্ত্রই নয়, ভালোবাসা ও সম্মানও পাক। মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে তারা যেন আগামী দিনে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে—এই প্রত্যাশাই আমাদের।” তিনি আরও জানান, ফুলের হাসি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পুরো মাসব্যাপী বিভিন্ন ধাপে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। শেষপর্বে তিনি এই মানবিক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও মানবতার কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।মানবিকতার এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করল সামান্য উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা একত্র হলে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষগুলোর জীবনেও হাসি ফোটানো সম্ভব। ফুলের হাসি ফাউন্ডেশনের এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে একটি আলোকিত, মানবিক ও সহমর্মী সমাজ গঠনের পথে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here