চট্টগ্রামে মোবাইল ব্যবসায়ীদের বিশাল শান্তিপূর্ণ মানবন্ধন: NEIR নীতির বিরুদ্ধে জনমত-

0
249

-মোঃ কামাল উদ্দিন।
আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার, চট্টগ্রামের তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতির গেইট নং ১-এর সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল শান্তিপূর্ণ মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ, যা আয়োজিত হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতি ও তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতি যৌথভাবে।সমাবেশের মূল কারণ ছিল সরকারের প্রস্তাবিত NEIR (National Equipment Identity Register) নীতি। এই নীতির মাধ্যমে মোবাইলের IMEI ও SIM কার্ড বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করতে হবে। BTRC-এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, গ্রে বা আন-অফিশিয়াল ফোন এবং প্রবাসীদের পাঠানো মোবাইল নিবন্ধনের জন্য ব্যবহারকারীদের ৫৭% শুল্ক দিতে হবে। কিন্তু ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই নীতি চালু হলে দেশের মোবাইল বাজারে একচেটিয় দখল গড়ে উঠবে, সাধারণ মানুষের ডিজিটাল স্বাধীনতা সংকুচিত হবে এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতি বিপন্ন হবে। উপস্থিতি ও নেতৃত্ব সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন: তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতি: সভাপতি মোহাম্মদ আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক আজম এম.এ, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সেলিম ও মোহাম্মদ বজলুর রহমান, অর্থ সম্পাদক হাজী মাহাবুর রহমান, আইন সম্পাদক এডভোকেট শাহজাহান, দপ্তর সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ মিনহাজুল আবেদিন।
বিপণি বিতান ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামশুল আলম চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় জনগণ।সমাবেশে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের নীতি সংশোধন ও জনস্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বক্তাদের মূল বক্তব্য বক্তারা NEIR নীতিকে দেশ ও জনগণের জন্য বিপজ্জনক চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, এটি সাধারণ মানুষের তথ্য বিদেশে পাচারের মাধ্যমে দেশীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও জনসাধারণকে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। বক্তাদের বক্তব্যের প্রধান পয়েন্টগুলো ছিল: জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি: NEIR সিস্টেমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি সার্ভারে জমা হতে পারে। বাজারে একচেটিয়াত্ব: মাত্র ৯টি কোম্পানি মোবাইল বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে, প্রতিযোগিতা থাকবে না, দাম বাড়বে। তরুণ প্রজন্মের ক্ষতি: শিক্ষার্থীরা ভালো মানের স্মার্টফোন কিনতে পারবে না, ডিজিটাল শিক্ষাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে।প্রবাসীদের উপহার মোবাইল অকার্যকর: ২ কোটিরও বেশি প্রবাসী পাঠানো ফোন ব্যবহার অযোগ্য হয়ে যাবে। গ্রামাঞ্চল ও নিম্ন আয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: ফোনের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।ফোন হারালে উদ্ধার কঠিন: হারানো ফোনের ট্র্যাকিং বা উদ্ধার কার্যকর হবে না। বেকারত্ব: প্রায় ২৫ হাজার ক্ষুদ্র ও মা

ঝারি ব্যবসায়ী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ২০ লক্ষাধিক মানুষ কর্মহীন হয়ে যেতে পারে। NEIR সিস্টেম ও জনস্বার্থের ঝুঁকি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা: মানুষের তথ্য আধুনিক যুগে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। NEIR-এর মাধ্যমে এটি চুরি বা নজরদারির জন্য ব্যবহার হতে পারে। বিদেশি নিয়ন্ত্রণ: দেশের মোবাইল সার্ভার যদি বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। সরকারি গোপনীয়তার বিপদ: প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপত্তার হুমকিতে থাকবে। ডেটা ট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইল: ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তথ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রণ বা ব্ল্যাকমেইলের আশঙ্কা। সিন্ডিকেট ও একচেটিয়াত্ব: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ধ্বংস করে একচেটিয়া বাজার সৃষ্টি হবে। অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন: ব্যাংক ঋণ, বেকারত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যবসায়ীদের দাবিসমূহ মোবাইল আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৭.৫%-১০% করা হোক। BTRC-এর আমদানি নীতি পুনর্মূল্যায়ন করে মুক্ত ও প্রতিযোগিতা মূলক বাজার নিশ্চিত করা হোক। NEIR সিস্টেমে SIM ও IMEI একত্রিতকরণ বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া বাতিল হোক। গ্রাহকের স্বাধীনতা ও ব্যবসায়ীর অধিকার রক্ষা করা হোক। কমপক্ষে পাঁচ হাজার মোবাইল আমদানিকারকের লাইসেন্স দেওয়া হোক। অতিরিক্ত কর চাপিয়ে ব্যবসা ধ্বংস করা বন্ধ করা হোক। লাগেজ ইম্পোর্ট নীতিমালা পুনর্গঠন করা হোক। প্রতিটি ফোন থেকে রাজস্ব আদায় করে নতুন বাংলাদেশ গঠনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। সমাবেশ ও মিছিলের সমাপ্তি মানবন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় আমতল থেকে নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। উপস্থিত ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা একাত্ম হয়ে NEIR নীতি সংশোধন বা বাতিলের দাবিতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি, যুব সমাজের ডিজিটাল অধিকার ও নিরাপত্তা বিপন্ন করার মতো নীতির বিরুদ্ধে তারা অবিরাম সচেতনতা ও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here