আগামীকাল মাইজভান্ডারী খেলাফত প্রাপ্ত প্রথম প্রধান তারকা হযরত শাহসূফী অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি ২১শে জানুয়ারী বার্ষিক ওরশ মাহফিলঃ চরণদ্বীপ দরবারে অনুষ্ঠিত হবে

0
222

মো. কামাল উদ্দিন
ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ চট্টগ্রাম। যুগে যুগে অসংখ্য সুফী সাধক পদাপর্ণ করে জন্মগ্রহণ করছেন
চট্টগ্রামের মাটিতে। তাঁদের পবিত্র পদস্পর্শে চট্টগ্রামের শ্যামল উর্বর মাটি হয়েছে ধন্য। সুফীদের
কারণে চট্টগ্রামের বিশেষ কিছু অঞ্চল সারা বিশ্বের কাছে সম্মানিত হয়েছে। মাইজভান্ডার শরীফ
তেমনি এক পবিত্র স্থান। অসংখ্য সুফী সাধকের পূণ্যভ’মি এই মাইজভান্ডার গ্রামে ১২৪৪ হিজরী
মোতাবেক ১৮২৬ খ্রীষ্টাব্দ, বাংলা ১২৩৩ এবং ১১৮৮ মঘী সনের ১ মাঘ বুধবার দ্বিপ্রহরে জন্মগ্রহন
করেন হযরত শহ সুফী সৈয়দ আহমেদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (রাঃ)। তাঁর পিতা হযরত সৈয়দ
মতিউল্লাহ ও মাতা সৈয়দা খায়েন্নেছা বিবি। অলিকুলের শিরমণি হযরত আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী
(রাঃ) এর সাহচর্যে এসে অনেকেই খোদার নেয়ামত প্রাপ্ত হয়ে আল্লাহর অলি তথা আল্লাহর
অনুগৃহীত বান্দায় পরিণত হয়েছেন এবং তার খেলাফত (প্রতিনিতিত্বকারি) অর্জন করেছেন, তন্মধ্যে
বারজন বিশেষভাবে পরিচিতি পান। গাউসুল আজম মাউজভান্ডরী সময় সময় কালাম করতেন
আমার বারটি সেতারা বাটি বরুজ ও বারটি কাছারী আছে। তাঁর উক্ত বাণীর উপর গবীরভাবে চিন্তা
করলে ও ব্যাখ্যা করলে এটা পরিষ্কার বুঝা যায় যে বারটি সেতারা অর্থ বারটি তারকা দ্বারা তিনি
তার বারজন বিশিষ্ট খলিফার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। বারজন তারকাদের অন্যতম তারকা যিনি
গাউসুল আজম আলোকে প্রথম আলোকিত হয়েছেন। তিনি হলেন আমাদের চরণদ্বীপের গর্বের ধন
হযরত শাহ সুফী শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী (রাঃ) চরণদ্বীপি। বোয়ালখালী থানার অন্তগর্ত
আমাদের পশ্চিম চরণদ্বীপ গ্রামে ১৮৫২ সালে ২১ জানুয়ারি ৭ই মাঘ রোজ বুধবার জন্মগ্রহণ
করেছিলেন। হযরত শাহ সুফী শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী (রাঃ)। পিতার নাম শেখ
মোহাম্মদ আজম আল ফারুকী ওরফে মাগন আলী এবং মাতার নাম মোছাম্মৎ জয়নাব বিবি। তিনি
গাউসুল আজম মাউজভান্ডারী (রাঃ) এর ইত্তেহাদী ফয়েজ প্রাপ্ত প্রথম ও প্রধান (স্থলাভিত্তিক)
খলিফা। তিনি সর্বপ্রথম গদীনশিন হওয়ার হুমকিপ্রাপ্ত হন। তিনিই হযরত কেবলার জীবিত
থাকাকালীন একমাত্র গদীনশিন হুকুমপ্রাপ্ত খলিফা। হযরত শহ সুফী শেখ অছিয়র রহমান (রাঃ) এর
পরে গাউছুল আজমের একমাত্র পুত্র শহজাদা হযরত মৌলভী শাহ সুফী সৈয়দ ফয়েজুল হক ফানা
ফিল্লাহ (রাঃ) রুহানী উত্তরাধিকার সুত্রে বেলায়েতি ক্ষমতা প্রাপ্ত বিশিষ্ট খলিফা হন। তার জন্ম
১৮৬৫ সালে। তিনি পিতা আহমদ উল্লাহ ম,াউজভান্ডারী জীবদশায় মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ১৯০২
সালে ইন্তেকাল করেন। ৩নং খলিফা হযরত শাহসুফী কাজী আছাদ আলী (রাঃ) তাঁর জন্মও
আমাদের বোয়ালখালী থানায়। হযরত মাওলানা শেখ অছিয়র রহমান (রাঃ) এর তিনি বাল্য বন্ধু
ছিলেন। তিনি হযরত মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাউজভান্ডারী (রাঃ) এর শীর্ষস্থানীয় বারজন খলিফার
অন্যতম। তাঁর মাজার শরীফ বোয়ালখালীর আহল্লা গ্রামে অবস্থিত। তিনি কিন্তু শাহ সুফী অছিয়র
রহমান (রাঃ) এর বেয়াই ছিলেন। উনার মেয়ে অছিয়র রহমান (রাঃ) এর মেজ ছেলের জন্য বউ
করে এনেছেন। ৪নং খলিফা আল্লামা শহ সুফী সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (রাঃ)। হাটহাজারী
থারার ফরহাদাবাদ গ্রামে ১৮৬৬ সালে জন্মগ্রহণ করে। তাঁর নামেই ফরহাদাবাদ গ্রামের নামকরণ
করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে ১৩ ডিসেম্বর নিজ গ্রামে ইন্তেকাল করেন। ৫নং খলিফা হযরত
মাওলানা শহ সুফী আমিরুজ্জামান শাহ (রাঃ)। তিনি ১৮৪৫ সালে পটিয়ার গোবিন্দরখীল গ্রামে
জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯২৭ সালে নিজ গ্রামে উন্তেকাল করেন। ৬নং হযরত মাওলানা শাহ সুফী
আমিনুল হক হারবাংগীরি (রাঃ) তাঁর জন্ম বোয়ালখালী থানার অন্তগর্ত আমাদের পূর্ব চরণদ্বীপস্থ
হারবাং গ্রামে। তিনি আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (রাঃ) এর নিকট বাইয়্যাত হন এবং তাঁর
শীর্ষস্থানীয় খলিফা ছিলেন। তিনি শেষ জীবনে মাইজভান্ডারী তরীকার প্রচারের উদ্দেশ্যে বার্মা গমন
করেন এবং সেখানেই উন্তেকাল করেন। ৭নং খলিফা হযরত মাওলানা শাহ সুফী আবদুল আজিজ
খিতাবচরী (রাঃ) তিনিও আমাদের বোয়ালখালী থানার অধিকারী এবং শাহসুফী শেখ অছিয়র বহমান
আল ফারুরী (রাঃ) এর বাল্যবন্ধু ছিলেন। লেখাপড়া শেষ করে দীর্ঘকাল ভারতের দেওবন্দ
মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। দেশে ফিরে এসে তিনি সুফী শেখ অছিয়ার রহমান (রাঃ) এর মতে
বিরোধীতা করলেও পরবর্তীতে তাঁর সাক্ষাতে সহজেই অনুরক্ত হয়ে যান এবং খেলাফত প্রাপ্ত হয়ে
শীর্ষস্থানীয় খলিফাদের অন্তর্ভুক্ত হন। বোয়ালখালী থানার খিতাবচর গ্রামে তাঁর মাজার শরীফ
অবস্থিত। ৮নং খলিফা হলেন ফটিকছড়ি কাঞ্চনপুর গ্রামের হযরত মাওলানা সৈয়দ আবুল
বারাকাত মুহাম্মদ আবদুল গনি কাঞ্চনপুরি (রাঃ)। ৯নং খলিফা ফটিকছড়ি থানার আজিম নগর
হযরত মাওলানা সৈয়দ আবদুল মজিদ (রাঃ)। ১০ নং খলিফা ফটিকছড়ি থানার শাহানগর গ্রামের
হযরত শাহ সুফী রেজওয়ার উদ্দিন শাহানগরী (রাঃ)। ১১ নং খলিফা গাউছুল আজম আহমদ উল্লাহ
মাউজভান্ডারীর (রাঃ) এর ভতিুষপুত্র হযরত সৈয়দ আমিনুল হক। ১২ নং খলিফা হযরত শাহ সুফী
সৈয়দ গোলামুর রহমান (রাঃ) প্রকাশ বাবা ভান্ডরী জন্মের পর নবজাতক শিশুকে আহম্মদ উল্লাহ
মাইজভান্ডারী কোলে নিয়ে তাঁর নামকরণ করেন গোলাম রহমান। মাইজভান্ডরী ফয়েজ প্রাপ্ত
হওয়ার পরে ২৮ বছর বয়সে তিনি সফরে বের হন। এবং দীর্ঘ বার বছর যাবত পাহাড় ও বন
জঙ্গলে ভ্রমনে কাটান। হযরত ভান্ডারী এর ওফাতের পর নিজ বাড়িতে ফিরে এসে হযরতের
স্থলাভিষিক্ত ও গদীনশিণ হন। মাইজভান্ডারীর পর এই তরিকার প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা
পালন করেন। তিনি ৭১ বছর বয়সে ১৯৩৭ সালে ৫ এপ্রিল রোজ সোমবার সকালে ইন্তেকাল
করেন। হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর পবিত্র রশ্নিতে আলোকিত বারজন খলিফাদের
আলোয় আলোকিত হয়েছে পুরোদেশে কয়েকহাজার। যার সঠিক পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই। ৭
মাঘ ২১ শে জানুয়ারী ২০২২ইং, রোজ শুক্রবার, শাহসুফী শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী
চরণদ্বীপী (কঃ) কেবলার ১৩০তম বেলায়েত ও বেলাদত বার্ষিকী ওরশ চরণদ্বীপ দরবার শরীফে
অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত ওরশে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ বক্তগণের মিলন ঘটবে। উক্ত ওরশ শরীফ
ইবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি একটি আনন্দ উৎসবে পরিণত হবে। এই বিশাল ওয়াজ মাহফিলের
আয়োজনে রয়েছেন- মওলানা অছিয়র রহমানের উত্তরসুরি বর্তমান দরবারের সাজ্জাদানশীন ও
পৃষ্টপোষক হযরতুলহাজ্ব শাহসুফি শেখ আবু মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ফারুকী (ম:)। উক্ত দরবারে দেশ
বিদেশ থেকে আগত মেহমানদের জন্য বড় ধরনের খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here