চাঞ্চল্যকর সিএনজি চালক খুরশিদ আলম হত্যা মামলায় আসামি গ্রেপ্তার

0
209

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা চাঞ্চল্যকর সিএনজি চালক মো. খুরশিদ আলম (৫১) হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিট থেকে ১১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন মুরাদনগর ১ নম্বর গলির মির্দ্দাপাড়া এলাকায় এনজি করিম টাওয়ার সংলগ্ন গৌবিন্দ ফার্মেসির সামনে পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ১ নম্বর আসামি মোহাম্মদ হোসেন (৪৩) হঠাৎ সিএনজি চালক মো. খুরশিদ আলমের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে তাকে গালিগালাজ করেন। খুরশিদ আলম গালিগালাজে বাধা দিয়ে বাসার দিকে চলে যেতে চাইলে মোহাম্মদ হোসেন ও ২ নম্বর আসামি মো. সামশুল আলম (৩৬)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জন তাকে মারধর শুরু করে। এ সময় মো. সামশুল আলম ভিকটিমের হাত ধরে তাকে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির মধ্যে মোহাম্মদ হোসেন তার হাতে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে খুরশিদ আলমের মাথার পেছনের অংশে আঘাত করেন। এতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। এরপর মোহাম্মদ হোসেন পুনরায় কাঠের বাটাম দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। ভিকটিম অচেতন হয়ে পড়লে আসামিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। নীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় খুরশিদ আলমকে উদ্ধার করে তার স্বজনদের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ভোর ৬টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাচু (৪৬) ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের ভিত্তিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা নম্বর-২৫, তারিখ-২১/০১/২০২৬, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর), সিএমপি এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর), সিএমপির সার্বিক দিকনির্দেশনায়, এসি বায়েজিদ জোনের তত্ত্বাবধানে ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মুরাদনগর মির্দ্দাপাড়া এলাকা থেকে মামলার ২ নম্বর আসামি মো. সামশুল আলম (৩৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির পিতা মো. সাইফুল ইসলাম, মাতা রহিমা বেগম। তার বাড়ি মুরাদনগর মির্দ্দাপাড়া, সাইফুল সওদাগরের বাড়ি এলাকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here