“চন্দনাইশে নির্বাচনী শোডাউনের অভিযোগে প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি-

0
212

চট্টগ্রাম চিত্র ডেস্ক: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এক প্রার্থীকে নির্বাচনী শোডাউনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগটি করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় বরমা ইউনিয়নে প্রার্থী মোটরযান ও পিক-আপ গাড়ি ব্যবহার করে প্রচারণামূলক শোডাউন করেছেন বলে।
অভিযোগকারী জনাব এম.এ. হাশেম রাজু, প্রধান সমন্বয়ক, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) এই অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তিনি কয়েকটি আলোকচিত্রও দাখিল করেছেন। নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী, এই ধরনের শোডাউন বিধি ৩ ও ৯-এর পরিপন্থী, যা রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে এবং ভোটারদের ওপর অনুপযুক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিবেচিত হয়।
চেয়ারম্যান সানজিদা আফরোজ বৃষ্টি, নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি, সংসদীয় আসন নং-২৯১, চন্দনাইশ কর্তৃক জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রোববার, সকাল ১১:৩০ ঘটিকার সময় সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, সাতকানিয়া চৌকিতে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ব্যাখ্যা প্রদান ব্যতীত অভিযোগটি নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন আকারে প্রেরণ করা হবে।
নোটিশের মাধ্যমে প্রার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নোটিশের কপি চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জসহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, চন্দনাইশে এই ধরনের অভিযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনগত শৃঙ্খলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তারা মনে করেন, প্রার্থী ও দলের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যাখ্যা না দিলে, এটি নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি মনিটর করছেন। তারা জানিয়েছে, প্রার্থীকে নোটিশের নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে, যার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, এলাকার সাধারণ ভোটাররা উদ্বিগ্ন যে, নির্বাচনী শোডাউন ও প্রচারণার সময় এই ধরনের ঘটনাগুলো ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন কমিশন এই ধরনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করবে। চন্দনাইশের এই ঘটনা এবারের নির্বাচনের সততা ও স্বচ্ছতা পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রার্থী ও দলের সচেতনতা ও আইন মেনে চলা এবারের নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here