নিরপরাধ কায়েস: রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বলি- সোহেল হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, ভোট ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের শিকার স্থানীয় নেতাঃ

0
230

-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ কায়েসকে সোহেল হত্যা মামলায় প্রধান আসামি করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষ একমত যে, কায়েস সম্পূর্ণ নিরপরাধ। তারা মনে করছেন, এটি কাসেম চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত আধিপত্যকে প্রতিষ্ঠার কৌশলের অংশ।
কায়েসের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাব মোহাম্মদ কায়েস কাশিয়াইশ ইউনিয়নের একজন সক্রিয় নেতা। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভোটের মাধ্যমে জয়ী হন। দ্বিতীয় বার ২০২১সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও কায়েস জয়ি হয়-তবে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও এমপি শামসুল হক চৌধুরীর সমর্থনে কাসেম চেয়ারম্যান নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কায়েস আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা এখনো বিচারাধীন। স্থানীয়রা মনে করেন, কায়েসের রাজনৈতিক প্রতিভা ও জনপ্রিয়তা কাসেম চেয়ারম্যানকে বিরক্ত করেছিল, আর তা তাকে রাজনৈতিক ফাঁসানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। সোহেলের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিবরণ নিহত সোহেল ছিলেন কাসেম চেয়ারম্যানের ছোট ভাই এবং কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের ভাগ্নে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোহেলকে হত্যা করেছে অন্য একজন—যিনি ধারালো ছুরি নিয়ে তাকে আঘাত করেন। সোহেলকে হত্যা করার মূল কারণ হিসেবে স্থানীয়রা কাসেম চেয়ারম্যানের আধিপত্য ও ক্ষমতার লড়াইকে চিহ্নিত করেছেন। মুল হত্যাকারী এখনও কারাগারে আটক রয়েছেন। ঘটনার দিন কায়েস পুরোপুরি নির্দিষ্টভাবে চট্টগ্রাম শহরের সুগন্ধা আবাসিক এলাকায় মসজিদে তারাবির নামাজে উপস্থিত ছিলেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন এবং পিবিআই তদন্তে তা প্রতিয়মান হয়। যেখানে কায়েস তখন সুগন্ধা হাউজিং সোসাইটির মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন, ফলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সংযোগ কি ভাবে হয়- কাসেম চেয়ারম্যান মামলায় কায়েসকে প্রধান আসামি করা হয় সেই এজাহারে উল্লেখ করেন কায়েস সরাসরি সোহেলকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন- অন্য দিকে মুল হত্যাকারি শরীফ আদালতে শিকার করেন সেই তার প্রাণ রক্ষায় অপারগ হয়ে সোহেলকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন সেইখানে কায়েস ছিলো না বা কায়েস কোন ধরনের সহযোগিতাও করেনি, স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও মানবিক বিবেচনা গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মীরা কায়েসের পক্ষে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে এগিয়ে আসেন। কয়েকশো মানুষ বাকলিয়া থানার বাইরে অবস্থান নেন এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানান—নির্দোষ কায়েসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক। স্থানীয়রা মনে করছেন, “কায়েসকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি সবসময় জনগণের কল্যাণে ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পটিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখালে বোঝা যায়—এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং জনপ্রিয় নেতাদের হয়রানি একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, কায়েসের গ্রেপ্তার ও মামলা একটি রাজনৈতিক কৌশল, যাতে স্থানীয় ক্ষমতার লড়াইয়ে একপক্ষের আধিপত্য নিশ্চিত করা যায়। কায়েসের ঘটনা প্রমাণ করছে, জনপ্রিয় ও নির্দোষ রাজনৈতিক নেতা প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন, যেখানে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহৃত হয় ভয় ও দমন সৃষ্টি করতে। সমাপনী মন্তব্য মোহাম্মদ কায়েসের গ্রেপ্তার এবং তার পক্ষে স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদ স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে—পটিয়ার রাজনীতি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং নির্দোষ মানুষদের উপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আইন ও প্রমাণভিত্তিক সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। স্থানীয় মানুষ আশা করছেন, কায়েসের নিরপরাধতা প্রমাণিত হবে এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনা হবে, যা মানবিক ন্যায় ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here