আহ্বায়ক: মোঃ আলী আকবর চুন্নু – সদস্য সচিব: এম. এ. হাশেম রাজু

0
250

“ছাত্র রাজনীতির পুরনো প্রজন্মের প্রত্যাবর্তন: ৮০–৯০ দশক ছাত্র মুভমেন্টের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা-
বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে ৮০–৯০ দশক এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সময়ের আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক চেতনা আজও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। ঠিক সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে ৮০–৯০ দশক ছাত্র মুভমেন্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি তাদের দুই দিনব্যাপী বর্ধিত সভার মাধ্যমে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ আলী আকবর চুন্নুর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান মনিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় জানানো হয়, ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাবেক ছাত্র-যুবনেতাদের সক্রিয় ভাবে দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে। তাদের দাবি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। সভায় সংগঠনকে দেশের ৬৪ জেলায় শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। এতে মোঃ আলী আকবর চুন্নুকে আহ্বায়ক এবং এম এ হাশেম রাজুকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশের পূর্ববর্তী সকল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যা সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে সারাদেশে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে অবহেলিত ও বঞ্চিত ছাত্র-যুব নেতাদের পুনরায় সংগঠিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। দেশের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অরাজকতা প্রতিরোধে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মব জাস্টিস বা বিশৃঙ্খলা যাতে দেশের মানচিত্রে স্থান না পায়, সে লক্ষ্যে সংগঠন সজাগ থাকবে। তারা দাবি করেন, ষড়যন্ত্র ও অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।নব-নির্বাচিত কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ছাত্রনেতা, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সংগঠনের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে একটি কার্যকর নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সবশেষে, দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত এনামুল হক ভূঁইয়া ধনু স্বাক্ষরিত এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের নতুন যাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অতীতের আন্দোলনী অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে তারা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সময়ের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণাকে অনেকেই দেখছেন ছাত্র রাজনীতির পুরনো প্রজন্মের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে। এখন দেখার বিষয়—এই উদ্যোগ বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয় এবং সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here