সুরের সাধক এস. এম. ফরিদ আমাদের সাংস্কৃতিক বিবেকের অংশ” এস এম ফরিদ এর স্মরণ সভায়—উপ পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলামঃ

0
190

চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর কনভেনশন হলে দেশবরেণ্য সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক জনাব এস. এম. ফরিদ-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, একজন গুণী শিল্পীকে স্মরণ করা মানে কেবল তাঁর সৃষ্টিকে স্মরণ করা নয়—বরং একটি সময়ের সাংস্কৃতিক চেতনাকে নতুন করে জাগ্রত করা। ‘স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গন’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় তিনি বলেন, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই গ্রামের নিভৃত পরিবেশ থেকে উঠে এসে এস. এম. ফরিদ যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, তা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি চট্টগ্রামের গর্ব, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। উপ পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমি পেশাগত দায়িত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকলেও গভীরভাবে বিশ্বাস করি—সংস্কৃতি ও সঙ্গীত একটি সমাজকে সহিংসতা থেকে দূরে রাখে, মানুষকে মানবিক করে তোলে। যে সমাজে শিল্পচর্চা শক্তিশালী, সেই সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমে, সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়। এস. এম. ফরিদের মতো শিল্পীরা নীরবে সেই মানবিক সমাজ গঠনের কাজ করে গেছেন।” তিনি আরও বলেন, এস. এম. ফরিদ সঙ্গীতকে কেবল পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি; তিনি এটিকে আত্মার সাধনা হিসেবে ধারণ করেছিলেন। তাঁর সুরে ছিল মাটির গন্ধ, মানুষের সুখ-দুঃখের প্রতিফলন, প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণ। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে তাঁর সুরারোপিত গান অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “একজন সুরকারের সার্থকতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তাঁর সুর অন্যের কণ্ঠে নতুন জীবন পায়। দেশের বহু খ্যাতিমান শিল্পী তাঁর সুরে গান গেয়ে সমৃদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি শুধু গান সৃষ্টি করেননি—গড়ে তুলেছেন একটি সঙ্গীতধারা।” মানুষ হিসেবে এস. এম. ফরিদের গুণাবলির কথাও তুলে ধরেন উপ পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “তিনি ছিলেন বিনয়ী, সহৃদয় এবং নবীন শিল্পীবান্ধব। তরুণদের উৎসাহ দেওয়া, তাঁদের প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করা এবং সংগীতাঙ্গনে শৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি করা—এসব ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।” রমজানের পবিত্র মাসে স্মরণসভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল আয়োজনের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজ আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে নিজেদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—সংস্কৃতির এই ধারাকে আমরা বাঁচিয়ে রাখবো।” তিনি ‘স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গন’-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ প্রতিষ্ঠান কেবল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়; এটি একটি উত্তরাধিকার বহন করছে। এস. এম. ফরিদের আদর্শ ও সুরধারা প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেওয়ার যে প্রয়াস নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। বক্তব্যের শেষাংশে উপ পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, “মৃত্যু একজন শিল্পীর দেহকে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি ও আদর্শকে মুছে দিতে পারে না। এস. এম. ফরিদ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর সুর আছে, তাঁর মানবিকতা আছে। নতুন প্রজন্ম যেন তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেয়—এটাই হবে তাঁর প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।” তিনি মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here