ঈদের আনন্দে নিরাপত্তার নতুন ইতিহাস—পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের নেতৃত্বে বদলে যাওয়া চট্টগ্রাম: চট্রল চিত্র ও দি টুরিস্ট-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন”

0
210

মো. কামাল উদ্দিনঃ চট্টগ্রাম—সমুদ্র, পাহাড় আর বাণিজ্যের মিলিত স্পন্দনে গড়ে ওঠা এক অদম্য নগরী। এই শহর যেমন দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, তেমনি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষারও কেন্দ্র। কিন্তু বহু বছর ধরে এই শহরের নামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কিছু উদ্বেগ—আইনশৃঙ্খলার অনিশ্চয়তা, অপরাধের আশঙ্কা, এবং নাগরিক জীবনে এক অদৃশ্য চাপা ভয়। কিন্তু এবারের ঈদ যেন সেই পরিচিত চিত্রটিকে আমূল বদলে দিয়েছে। শহরের অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক, মার্কেট থেকে মসজিদ, পর্যটন কেন্দ্র থেকে বাস টার্মিনাল সবখানেই ছিল এক অন্যরকম নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং প্রশান্তির ছোঁয়া।এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সম্মানিত পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ—যার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এক নতুন নিরাপত্তা দৃষ্টান্ত।প্রেক্ষাপট: এক চ্যালেঞ্জিং সময়ের দায়িত্ব নবগঠিত বিএনপি সরকারের প্রথম ঈদ—রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে এটি ছিল একটি বড় পরীক্ষা। নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ, এবং ঈদকে ঘিরে বাড়তি চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল “নগরবাসী যেন নির্ভয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারে।” এই নির্দেশনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব এসে পড়ে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের কাঁধে—এবং তিনি সেই দায়িত্ব শুধু পালনই করেননি, বরং তা এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। পরিকল্পনার গভীরতা: কাগজ থেকে মাঠে ঈদের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। সিএমপি সদর দপ্তরে একের পর এক সমন্বয় সভা—১৬টি থানার অফিসার ইনচার্জ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারগণ, সিটি এসবি, নগর গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) সবাইকে নিয়ে গড়ে তোলা হয় একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা, মার্কেট ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি, ছিনতাই প্রবণ স্পটগুলোতে বিশেষ টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা মোতায়েন—সবকিছুই ছিল এই পরিকল্পনার অংশ। একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের বলেন, কমিশনার সাহেব শুধু নির্দেশ দেননি—তিনি নিজে মাঠে নেমে তদারকি করেছেন। এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।” মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন: দৃশ্যমান পরিবর্তনঈ দের আগের দিনগুলোতে চট্টগ্রামের মার্কেটগুলো ছিল জনস্রোতে ভরা। নিউ মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ—সবখানে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—কোনো বড় ধরনের ছিনতাই, চুরি বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশি উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। ঈদের দিন সকালে মসজিদ গুলোতে ছিল কঠোর কিন্তু সহনশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করেছেন। ঈদের পর পর্যটন কেন্দ্রগুলো—পতেঙ্গা, ফয়’স লেক, বাটালি হিল—সবখানেই ছিল পুলিশি নজরদারি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষজন ছিলেন নিশ্চিন্ত। অতীতকে ছাড়িয়ে যাওয়া: এক নতুন মানদণ্ড চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অতীতে বহু সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এবারের ঈদে সেই অতীত যেন ম্লান হয়ে গেছে। দেশের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় চট্টগ্রাম ছিল অনেক বেশি শান্ত, স্থিতিশীল এবং অপরাধমুক্ত। একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী বলেন,“ গত ২০ বছরে এমন ঈদ আমি খুব কম দেখেছি।” মানুষের কণ্ঠে নিরাপত্তার গল্প এই প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে চট্রল চিত্র ও দি টুরিস্ট পত্রিকার পক্ষ থেকে আমরা নগরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছে প্রকৃত চিত্র।১. মোঃ আবদুল করিম (ব্যবসায়ী): “এবার ব্যবসা করেছি নির্ভয়ে। পুলিশ আমাদের আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে।” ২. শারমিন আক্তার (গৃহিণী): “রাতে বাচ্চাদের নিয়ে বের হয়েছি—কোনো ভয় ছিল না।” ৩. রাশেদ (রিকশাচালক): পুলিশ ছিল বলেই আমরা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পেরেছি।” ৪. ফারহানা ইসলাম (শিক্ষার্থী): “বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছি—নিরাপদ মনে হয়েছে।” ৫. হুমায়ুন কবির (পরিবহন শ্রমিক): “টার্মিনালে শৃঙ্খলা ছিল—এটা বড় ব্যাপার।” ৬. নুরুল ইসলাম (ইমাম): “ঈদের জামাতে নিরাপত্তা ছিল প্রশংসনীয়।” ৭. সাইফুল্লাহ (পর্যটন গাইড): পর্যটকদের জন্য পরিবেশ ছিল খুব ভালো।” ৮. লিপি আক্তার (গার্মেন্টস কর্মী): “যাতায়াতে কোনো সমস্যা হয়নি।” ৯. জসিম উদ্দিন (হকার): “পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেছে।” ১০. মাহবুব আলম (ব্যাংকার):“ এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক।” ১১.রোকসানা বেগম (বয়স্ক নাগরিক): “নিরাপদ মনে হয়েছে—এটাই বড় পাওয়া।” ১২. আরিফ হোসেন (যুবক): “রাতেও শহর ছিল নিরাপদ।” ১৩. জাহাঙ্গীর আলম (ট্যাক্সিচালক): “যাত্রীদের নিয়ে কোনো ভয় ছিল না।” ১৪. নাসরিন সুলতানা (শিক্ষিকা): “শহরের পরিবেশ ছিল শান্ত। ”১৫. সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী: “আমি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করছি। বাস্তবতার নিরিখে বলবো এবারের ঈদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল এক কথায় ব্যতিক্রমী ও উদাহরণযোগ্য।” পুলিশ বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টা সাফল্যের পেছনে শুধু একজন কমিশনার নয়—পুরো পুলিশ বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে। ১৬টি থানার অফিসার ইনচার্জ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারগণ, সিটি এসবি, নগর গোয়েন্দা সংস্থা—সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন। দিন-রাত পরিশ্রম, ছুটি ত্যাগ, দায়িত্ববোধ—এই সবকিছুর সম্মিলনে গড়ে উঠেছে এই সাফল্য। অর্থনীতি ও পর্যটনে ইতিবাচক প্রভাব নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে এসেছে নতুন গতি। মার্কেটগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়—যা স্থানীয় অর্থনীতিকে করেছে আরও সচল। একজন পর্যটক বলেন, “নিরাপত্তা থাকলে মানুষ ঘুরতে বের হয়—এটাই প্রমাণিত হয়েছে।” অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অন্তরালেএ ই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে চট্রল চিত্র ও দি টুরিস্ট পত্রিকার পক্ষ থেকে আমরা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি, মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। এই প্রতিবেদনের ধারণ, সংকলন ও বিশ্লেষণে আমি, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সরাসরি যুক্ত ছিলাম। মাঠপর্যায়ে গিয়ে মানুষের মুখের ভাষা, তাদের অনুভূতি এবং বাস্তব পরিস্থিতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি নিরপেক্ষভাবে। আমাদের এই প্রচেষ্টা—শুধু একটি প্রতিবেদন নয়, বরং একটি সময়ের দলিল। ভবিষ্যতের প্রত্যাশা এই সাফল্য যদি ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, তবে চট্টগ্রাম হয়ে উঠতে পারে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ নগরীগুলোর একটি। মানুষ এখন আশাবাদী—এই পরিবর্তন যেন স্থায়ী হয়। নিরাপত্তার আলোয় আলোকিত এক নগরী একটি শহরের প্রকৃত শক্তি তার মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থায়। এবারের ঈদে চট্টগ্রাম সেই আস্থা ফিরে পেয়েছে। পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের নেতৃত্বে, ১৬ থানার অফিসার ইনচার্জ এবং পুরো পুলিশ বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম আজ নিরাপত্তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। নগরবাসীর কণ্ঠে একটাই কথা—

“এই ধারা অব্যাহত থাকুক, নিরাপদ থাকুক আমাদের প্রিয় চট্টগ্রাম।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here