মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

0
124

 চট্টগ্রাম: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সাপ্তাহিক গণশুনানিতে সাহায্যপ্রার্থীদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়া মানুষ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ‘মানবিক ডিসি’ খ্যাত জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে।

প্রতিটি আবেদনের পেছনে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।  বুধবার (৮ এপ্রিল) গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা। ভারতের একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকায় পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবে একেবারে বিপর্যস্ত। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই বলে জানানোর পর ডিসি জাহিদুল ইসলাম তাকেও সহায়তা করেন।

৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগম বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি সাহায্য প্রার্থনা করেন। জেলা প্রশাসক তাকে নিরাশ করেননি। জামিলা বেগম দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান। পরিবারে আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি সম্পূর্ণ অসহায়। ডিসির আর্থিক সহায়তা পেয়ে জামিলা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। 

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলা মো. মনজুর আলম আগে পরিবারের উপার্জনকারী ছিলেন। এখন কাজ করতে না পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানো অসম্ভব বলে জানালে ডিসি তার পাশে দাঁড়ান।মো. নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ধার-দেনা করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জরুরি সহায়তা চাইলে ডিসি জাহিদুল ইসলাম তাকে ফিরিয়ে দেননি। একই নামের আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা প্রার্থনা করেন। তাকেও সহায়তা করা হয়।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না বলে জানান। সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে সহযোগিতা কামনা করলে ডিসি তাকে নগদ অর্থ সাহায্য করেন। গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকে আবার অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

মানবিক ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে সারাদেশে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রশাসনিক সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here