
বিপ্লব বিজয়, চট্টগ্রাম, ১১ এপ্রিল ২০২৬: কোলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এক মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এই কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, বিশ্বব্যাপী মার্চ মাসকে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতার মাস হিসেবে পালন করা হয়। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “Early Detection Saves Life” সামনে রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিএসসিআর হাসপাতাল এবং পিজিএস একাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগে পুরো মার্চজুড়ে সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই উদ্যোগকে তিনি দেশের ইতিহাসে সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে একটি সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন। কর্মসূচির আওতায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে প্রতীকী নীল আলোকসজ্জা করা হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ ও আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ কর্মসূচিটিকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে এই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন স্ক্রিনিং সুবিধায় ছাড় প্রদান। সিএসসিআর হাসপাতালে কোলোনোস্কোপি ও স্টুল অককাল্ট ব্লাড টেস্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য এসব পরীক্ষা সহজলভ্য হয়েছে এবং স্ক্রিনিংয়ের প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পুরো কর্মসূচিতে মোট ২১৫৭ জন রোগী নিবন্ধন করেন, যার মধ্যে ১৭৪৯ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয়। এছাড়া ৮১৩ জন রোগী ৫০ শতাংশ ছাড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা গ্রহণ করেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর কোলোনোস্কোপি সম্পন্ন হয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করা হয়। এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন পিজিএস একাডেমিয়ার চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৩১ জন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী এবং তিনজন অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট সার্জন এতে যুক্ত ছিলেন। চিকিৎসকরা তাদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে রোগীদের সেবা প্রদান করেন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়া সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাব ও ভয় থেকে অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা নেন, ফলে জটিলতা বৃদ্ধি পায়। এই বাস্তবতা পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ্য একটি “Clean, Green and Healthy City” গড়ে তোলা। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নগরীর প্রতিটি নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসে। সংবাদ সম্মেলনের শেষে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকল প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং চট্টগ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সবাইকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে, যা জাতীয় পর্যায়ে ক্যান্সার প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

