“চট্টগ্রামের রাজনীতি ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার ঢেউ—অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহ ও সাবেক পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজকে ঘিরে মূল্যায়ন ও প্রত্যাশা-

0
138

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং প্রশাসনিক মহলে বর্তমানে দুটি নাম ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠক হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহ, অন্যদিকে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় আলোচিত সাবেক পুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হাসিব আজিজ। দুই ভিন্ন পেশার এই দুই ব্যক্তিত্বকে ঘিরে আলাদা আলাদা আলোচনার পাশাপাশি একটি সাধারণ বিষয় উঠে এসেছে—অভিজ্ঞতা, দায়িত্বশীলতা এবং মূল্যায়নের দাবি। অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহ: সংগ্রাম, সংগঠন ও রাজনৈতিক যাত্রা আনোয়ারা উপজেলার গুয়াপঞ্চক গ্রামের সন্তান অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, তিনি সবসময় মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি আইন পেশায় যুক্ত থেকে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় রয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনের চ্যালেঞ্জ রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় তিনি একাধিকবার মামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৩ ও ২০২৩ সালে রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় তিনি আটক হন। তিনি বিভিন্ন সময় বলেছেন—রাজনীতি তাঁর কাছে ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও আদর্শের সংগ্রাম। হাসিব আজিজ: প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রামের প্রশাসনিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হলো হাসিব আজিজ। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার এবং বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।
দায়িত্বশীল প্রশাসনিক ভূমিকা সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশ মনে করে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একটি অত্যন্ত কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে কাজ করেছেন। অনেকের মতে, সেই সময় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি সামাল দেওয়া এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের মতে, কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ছিল উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পটভূমি হাসিব আজিজের পারিবারিক পটভূমিও আলোচনায় আসে। তাঁর পিতা সাবেক আইজিপি আজিজুল হক, যিনি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে উচ্চ দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়। এই প্রশাসনিক পরিবার থেকে আসার কারণে ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
মূল্যায়নের দাবি কেন উঠছে বিভিন্ন নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেও অনেক সময় যথাযথ মূল্যায়ন পাওয়া যায় না—এমন একটি ধারণা সমাজে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কিছু মহল মনে করে, হাসিব আজিজের মতো অভিজ্ঞ, চৌকস ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। তাদের মতে, ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হলে অভিজ্ঞতা, সততা এবং দায়িত্ব পালনের রেকর্ডকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই ভিন্ন বাস্তবতা চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে— রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূল নেতৃত্ব ও সংগঠন পুনর্গঠন প্রশাসনিক অঙ্গনে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ও ভূমিকা বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই ক্ষেত্র আলাদা হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা—এই দুইয়ের সমন্বয়ই একটি অঞ্চলের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহ এখন একটি পরিচিত ও আলোচিত নাম। তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং আইন পেশার অভিজ্ঞতা তাঁকে আলাদা অবস্থানে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে প্রশাসনিক অঙ্গনে হাসিব আজিজ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর দায়িত্ব পালন, অভিজ্ঞতা এবং মূল্যায়নের দাবি—সব মিলিয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছেন। সবশেষে বলা যায়, সময়ই নির্ধারণ করবে কার ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে এবং কিভাবে এই দুই ভিন্ন অঙ্গনের নেতৃত্ব রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রভাব ফেলবে। শেষ কথা অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহ বলেন, তিনি বর্তমান সরকারের সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সফল তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। দেশ ও জনগণের কল্যাণই হওয়া উচিত সকল রাজনৈতিক কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য। সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র হিসেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here