২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: চট্টগ্রামে ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়াবে চসিক

0
121

বিপ্লব বিজয় চট্টগ্রাম :   আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরের প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বৃহস্পতিবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মেয়র বলেন, শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নগরীর কোনো শিশুই যাতে এ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডের সাতটি ইপিআই জোনের আওতায় ১ হাজার ৩২১টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এতে ২ হাজার ৬৫৮ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ৯২ হাজার শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। গত বছর এ কর্মসূচির সাফল্যের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এবার শতভাগ সফলতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে চসিক। পথশিশুদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মেয়র বলেন, নিয়মিত কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ টিম মোতায়েন করা হবে। এসব টিমের মাধ্যমে পথশিশুদেরও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে, যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে। তিনি আরও জানান, ক্যাম্পেইন শেষে যদি কোনো শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বাদ পড়ে, তাহলে তাদের অভিভাবকরা নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে নিয়ে এসে ক্যাপসুল খাওয়ানোর সুযোগ পাবেন। সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন চসিক মেয়র। তিনি জানান, চলতি বছরে চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিক নিয়মিতভাবে বিটিআই (BTI) প্রয়োগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। প্রতি শনিবার অন্তত ১০ মিনিট সময় দিয়ে বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মেয়র জানান, নগরীর ২, ৩, ১০, ১৭, ১৯ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here