চট্টগ্রাম, ২৯ জুন: দেশীয় ফলের বর্ণিল আয়োজন, সুরের মূর্ছনা, কবিতার আবেশ এবং সংস্কৃতির প্রাণস্পর্শী পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি। স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উদ্যোগে আয়োজিত দেশীয় ফল উৎসব চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ উৎসবে মিলনায়তনজুড়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ। আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, জামরুল, পেয়ারা, আনারস, তরমুজ, ডাব, কলা, সফেদা ও লেবুসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলে সজ্জিত মঞ্চ দর্শকদের ফিরিয়ে নেয় বাংলার গ্রাম, প্রকৃতি ও শৈশবের স্মৃতিতে। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন নাহার গ্রুপ অ্যান্ড নাহার বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দীন জনি। সভাপতিত্ব করেন স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচালক এবং বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী সামশুল হায়দার তুষার। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী ফারুক তাহের। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দ আয়াজ মাবুদ, বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী মুহাম্মদ ইকবাল হায়দার, গজলশিল্পী শাহাজান খান, লোকসঙ্গীতশিল্পী মানস পাল চৌধুরী এবং সাংবাদিক, গবেষক ও টেলিভিশন উপস্থাপক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এছাড়াও সমাজ, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বসহ প্রায় দুই শতাধিক অতিথি ও দর্শকের উপস্থিতিতে মিলনায়তন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। সাংস্কৃতিক পর্বে স্বরলিপির শিক্ষার্থী জয় দত্ত, রিদু চৌধুরী, আইভি দাশ, নুসরাত সুমি, টিপু মজুমদার, নাঈম মাহমুদ ও মুজিবুর রহমান সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পরে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের খ্যাতিমান শিল্পী সামশুল হায়দার তুষার, ইকবাল পিন্টু, মুহাম্মদ ইকবাল হায়দার, মোজাহেরুল ইসলাম, সাইফউদ্দীন এস. বি. সুমি এবং শ্রাবন্তি শুক্লা একের পর এক গান পরিবেশন করে দর্শকদের করতালিতে ভাসিয়ে দেন। বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন সুমন দাস (কিবোর্ড), কানু চক্রবর্তী (তবলা), টিটি দাশ (অক্টোপ্যাড), তন্ময় (লিড গিটার), পলাশ (বেইজ গিটার) এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন মাসুদ। আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, দেশীয় ফল আমাদের কৃষি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচিত করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সাংবাদিক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যে জাতি নিজের মাটি, নিজের ফল ও নিজের সংস্কৃতিকে ভালোবাসে, সেই জাতির আত্মপরিচয় কখনও হারিয়ে যায় না।” পরে তিনি দেশীয় ফল নিয়ে রচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথি ও দর্শকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ফল বিতরণ করা হয়। আনন্দঘন পরিবেশে সবাই ফল উপভোগ করেন এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলো আলোকচিত্রে ধারণ করেন। আয়োজকদের মতে, স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই ফল উৎসব কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি ছিল বাংলার শেকড়, দেশীয় ফল, সাহিত্য, শিল্প ও মানবিক বন্ধনের এক অনন্য উদযাপন। অংশগ্রহণকারীদের মতে, ২৯ জুনের এই আয়োজন চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।