রুমা জোনের মানবিক সহায়তা: দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও জরুরি সেবায় সেনাবাহিনী

0
60

 নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি বিভিন্ন পাড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন (৩৬ বীর)। স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সোমবার (২৭ জুলাই) দিনব্যাপী এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। রুমা জোনের জোন কমান্ডার ৩৬ বীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, রোগী পরিবহনের সরঞ্জাম এবং নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পুরাতন পাইন্দু উজানি পাড়ার বাসিন্দাদের জন্য ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি পানির ট্যাংকি প্রদান করা হয়। এছাড়া কিউলংক্ষ্যাং পাড়ার তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে একটি ফুটবল, একটি ভলিবল এবং দুটি ভলিবল নেট বিতরণ করা হয়। এদিকে বড়থলি মার্মা পাড়া, ছালছড়া পাড়া ও ত্রিপুরা পাড়ার শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা, হোয়াইট বোর্ড, ফুটবলসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বড়থলি পাড়ার রোগীদের জরুরি পরিবহনের সুবিধার্থে একটি স্ট্রেচার (বেয়ারাসহ) প্রদান করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বগালেক পাড়ায় এক মৃত ব্যক্তির দাফন-সৎকারের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া বড়থলি ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা কর্ণ ত্রিপুরার দুই সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া অসহায় কয়েকজন ব্যক্তির হাতেও নগদ সহায়তা তুলে দেয় রুমা জোন। এর মধ্যে পানতলা পাড়ার নুমংপ্র মারমা পেয়েছেন ৭ হাজার টাকা, মুলফি পাড়ার মং ওয়াই মারমা পেয়েছেন ৩ হাজার টাকা এবং একই পাড়ার সাংনুপ্রু মারমা পেয়েছেন ৩ হাজার টাকা। সহায়তা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের প্রয়োজনভিত্তিক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করবে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ, রোগী পরিবহনের সুবিধা এবং খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন। বড়থলি ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা কর্ণ ত্রিপুরা বলেন, “দুই সন্তানের লেখাপড়া ও পরিবারের খরচ চালাতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলাম। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সহায়তা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনেক সহায়ক হবে। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।” রুমা জোনের জোন কমান্ডার ৩৬ বীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই দায়িত্ব পালন করে না, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here