১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পেনশনারের মৃত্যু হলে বিধবা স্ত্রী কী পাবেন?

0
19

শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে অবসরে যাওয়া কোনো পেনশনার ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পুনঃস্থাপিত পেনশন পাবেন কি না—এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি স্পষ্ট না থাকায় অনেক পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এরই একটি উদাহরণ জনতা ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শাহজাহান শাহের পরিবার। ২০১০ সালে অবসরে যাওয়ার পর পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি তার শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে এককালীন অর্থ তুলে নেন। পরে সেই অর্থও ব্যয় হয়ে যায়। এরপর স্ত্রী পিয়ারা বেগমকে নিয়ে দুই ছেলের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। ২০২০ সালের দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহজাহান। পরের বছর তিনি মারা গেলে পরিবারের আর্থিক সংকটের পাশাপাশি একাকিত্বেও পড়েন সত্তরোর্ধ্ব পিয়ারা বেগম। এখন প্রয়োজন হলে ছেলেদের কাছেই তাকে নির্ভর করতে হয়। পিয়ারা বেগমের দাবি, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের ১৫ বছর পর পেনশন পুনঃস্থাপনের বিধান থাকলে, সেই সময় পূর্ণ হওয়ার আগে পেনশনার মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রীকেও এ সুবিধার আওতায় আনা উচিত। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের আবেদন শুধু পিয়ারা বেগমের নয়। শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে অবসরে যাওয়া এবং ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা যাওয়া পেনশনারদের অনেক বিধবা স্ত্রী একই দাবি জানিয়েছেন। গত কয়েক বছরে এ বিষয়ে বেশ কিছু আবেদনও জমা পড়েছে। তবে এমন আবেদনকারীর সঠিক সংখ্যা মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। সরকারি বিধান অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ পেনশন সমর্পণের সুযোগ চালু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ জুন এ ব্যবস্থা বন্ধ করে পরদিন থেকে পেনশনের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের বিধান চালু করা হয়। এর আগে প্রায় ২৩ বছরে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে অবসরে যান। শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাদের মাসিক পেনশন পুনঃস্থাপন করা হবে। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা কার্যকর করা হয়। পরে ২০১৯ সালের আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী পেনশনারের পেনশন পুনঃস্থাপিত হয়ে থাকলে তার মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী, বিপত্নীক স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তারা পুনঃস্থাপিত পেনশনের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে চিকিৎসা ও উৎসব ভাতাও পাওয়ার কথা বলা হয়। তবে সমস্যাটি তৈরি হয়েছে পেনশন পুনঃস্থাপনের ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পেনশনার মারা গেলে। এ পরিস্থিতিতে বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পেনশন পাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, মূল পেনশনারের পেনশন পুনঃস্থাপিত না হলে তার মৃত্যুর পর সেটি পারিবারিক পেনশন হিসেবে উত্তরাধিকারীদের কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাদের মতে, বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীর পেনশন পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো পেনশনারের পেনশন পুনঃস্থাপিত হওয়া। অন্যদিকে, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকে। তাদের মতে, এককালীন পেনশনের অর্থ অনেক সময় চিকিৎসা, ঋণ পরিশোধ বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় হয়ে যায়। পরে পেনশনার মারা গেলে তার প্রবীণ স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। তাদের মতে, ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পেনশনার মারা গেলে বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীকে বিশেষ বিবেচনায় পেনশন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকার নতুন করে ভাবতে পারে। এতে খুব বেশি সংখ্যক মানুষকে সুবিধা দিতে হবে না এবং সরকারের আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here