
সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে গোপনে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর দাবি, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ না পেলে ওই সাংবাদিকরা পুলিশকে অকার্যকর উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের ইসলামিক ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না; বরং তাঁদের কেউ কেউ মাদক কারবারিদের কাছ থেকে গোপনে অর্থ নিচ্ছেন। সেখান থেকে টাকা না পেলে তাঁরাই সংবাদ প্রকাশ করছেন যে, দেশে পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশ কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি এবং অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগও করেনি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে ভয় পেতেন এবং দায়িত্ব পালনে সাহস পেতেন না।
বর্তমান সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ কাজ করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। এ কাজে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কে দেশে আসবেন বা কখন আসবেন, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিবেচ্য বিষয় নয়। আইন ও সংবিধান অনুযায়ী যেখানে যে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, পুলিশ সেটিই করবে।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ ব্যবহারের প্রসঙ্গও তোলেন পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হবে এবং সরকার অনুমতি দেবে, সেখানে তাঁরা সেটি করবেন।
পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ লাঠিপেটা করলে তাকে ফ্যাসিস্ট পুলিশ বলা হয়, আবার নীরব থাকলে দুর্বল পুলিশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
এদিকে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। সোমবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করার উদ্দেশ্য আইজিপির ছিল না। অসাবধানতাবশত তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
একই বিজ্ঞপ্তিতে ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, আইন প্রয়োগে কঠোরতা বোঝাতে আইজিপি শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেননি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

