২৪ বছরের প্রবাসজীবনের সঞ্চয়, নিজের ঘরেই নিরাপত্তাহীনতা!

0
25

হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণালংকার ও দলিল লুটের অভিযোগ নাসিমার; মামলা করেও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি
প্রবাসী নারীর প্রশ্ন—নিজের দেশে নিরাপদে বাঁচার অধিকার কি আমার নেই?
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বিদেশের মাটিতে প্রায় ২৪ বছর। জীবনের সোনালি সময়ের দীর্ঘ অধ্যায় কেটেছে প্রবাসে, পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার সংগ্রামে। ঘাম, শ্রম, ত্যাগ আর সীমাহীন পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন নিজের ঘরবাড়ি, জমিজমা ও সঞ্চয়। ভেবেছিলেন, জীবনের শেষ ভাগে নিজের দেশে ফিরে একটু শান্তিতে থাকবেন, প্রয়াত বাবার স্মৃতি বুকে ধারণ করে নিজের ঘরে নিশ্চিন্তে রাত কাটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের পাঠান পাড়া এলাকার প্রবাসী নারী নাসিমা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর নিজের বসতঘরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে, কিরিচ দিয়ে কোপানো হয়েছে, গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়েছে এবং তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। একই ঘটনায় স্বর্ণের চেইন, নগদ টাকা ও দুটি দামি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি ঘর থেকে বিভিন্ন মালামাল, জমির দলিল ও ব্যাংকের চেকবই নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
তাঁর অভিযোগ, এসব ঘটনায় থানায় মামলা এবং পরবর্তী সময়ে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করার পরও তিনি কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। হারানো মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার হয়নি বলে তাঁর দাবি। উপরন্তু, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকির অভিযোগে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নাসিমার আকুতি, তিনি কোনো প্রতিশোধ চান না; চান নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধের বিচার, হারানো সম্পদ উদ্ধার এবং নিজের দেশে নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।
বাবার মৃত্যুর পর দেশে ফিরে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন
নাসিমা আক্তারের এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওমানে বসবাস করেন এবং কয়েক মাস পরপর বাংলাদেশে আসেন। দেশের বাড়িঘর দেখাশোনার জন্য নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি ওমান থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পরে নিজের বাড়িতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়কের কাছে ঘরের চাবি চান। চাবি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তিনি জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
পরবর্তী সময়ে ঘরের মালামাল পরীক্ষা করতে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র, মূল্যবান কাপড়চোপড়, জমির দলিল ও ব্যাংকের চেকবই খুঁজে পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাসিমার দাবি, বিষয়টি নূর মোহাম্মদকে জানালে তিনি নিখোঁজ মালামাল তাঁর কাছে রয়েছে বলে স্বীকার করেন এবং ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু বারবার চেয়েও সেগুলো ফেরত পাননি বলে তাঁর অভিযোগ।
একজন বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের কাছে ঘরের চাবি দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার যে প্রত্যাশা, সেই আস্থার জায়গাতেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মালামাল নিখোঁজের ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ঘর থেকে কী কী মালামাল নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ?
এজাহারে নাসিমা আক্তার যেসব মালামাল ও সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে—
দুটি গ্যাসের সিলিন্ডার, আনুমানিক মূল্য ৬ হাজার টাকা।
একটি টেবিল ও ১৮টি চেয়ার, আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা।
৩০টি ডেকচি ও পাতিল, আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা।
আলমারিতে রাখা দামি শাড়ি ও বিভিন্ন কাপড়চোপড়, আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা।
শিকলবাহা পাঠান পাড়া এলাকার ভাড়া বাসার ২.৫ গণ্ডা জমির দলিল।
শিকলবাহা পাঠান পাড়া এলাকার নিজ বাড়ির ৪ গণ্ডা জমির দলিল।
পটিয়ার কইনপুরা এলাকার ১৯ গণ্ডা ও ৮ গণ্ডা জমির দলিল।
আনোয়ারার চাতুরী এলাকার ১ কানি জমির দলিল।
বড়উঠান এলাকার ৩ গণ্ডা জমির দলিল।
ইসলামী ব্যাংক, চাক্তাই শাখা এবং রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার সঞ্চয়ী ও ঋণ হিসাবের চেকবই।
ইউসিবি ব্যাংক, মইজ্জ্যারটেক শাখার সঞ্চয়ী হিসাবের চেকবই।
নাসিমার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সম্পদ ও নথিপত্র তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জমির দলিল ও ব্যাংকের চেকবই নিখোঁজ থাকার কারণে ভবিষ্যতে সম্পত্তির মালিকানা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
এখানে শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; রয়েছে বহু বছরের পরিশ্রমে অর্জিত সম্পদ রক্ষার প্রশ্ন। জমির দলিল হারিয়ে গেলে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ভূমি কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২৭ আগস্টের রাত: বসতঘরে হামলার ভয়াবহ অভিযোগ
এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে তাঁর ছেলে মো. জীবনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি কিরিচ, লোহার রড ও কাঠের বাটাম নিয়ে নাসিমার বসতঘরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাসিমার অভিযোগ, এ সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। নূর মোহাম্মদের হাতে থাকা কিরিচের আঘাতে তাঁর বাম হাতে কাটা জখম হয়। আঘাতে মাটিতে পড়ে গেলে অন্য অভিযুক্তরা তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন বলেও তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর আরও অভিযোগ, তিনি চিৎকার করলে মো. জীবন তাঁর গলায় রশি পেঁচিয়ে চেপে ধরেন। এতে তাঁর গলার চারপাশে কালশিটে ও রক্ত জমাটের মতো জখম হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
এজাহারে বর্ণিত ঘটনাগুলো সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, চিকিৎসার নথি পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন জরুরি।
নাসিমার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্বর্ণের চেইন, নগদ টাকা ও দুটি দামি মোবাইল ফোন নেওয়ার অভিযোগ
নাসিমা আক্তার এজাহারে দাবি করেছেন, তাঁর গলায় থাকা আনুমানিক দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকা উল্লেখ করেছেন, ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং ঘরে থাকা দুটি স্যামসাং মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোবাইল ফোন দুটির আনুমানিক মূল্য তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন।
এজাহারে দুটি মোবাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি নম্বরও উল্লেখ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে মোবাইল ফোনের পরিচিতি, ক্রয় রসিদ, আইএমইআই নম্বর, সিমের নিবন্ধন এবং প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই করা যেতে পারে।
তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িচালক মো. জিয়াউল হক ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এই চিকিৎসার নথি, আঘাতের বিবরণ, হাসপাতালের রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বক্তব্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপাদান হতে পারে।
থানায় মামলা, তারপরও কেন প্রতিকারের অপেক্ষা?
প্রাপ্ত এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিয়ে কর্ণফুলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নথিতে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলা রুজুর উল্লেখ রয়েছে। এজাহারে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৪০৮, ৩৮০, ৩৫৪ ও ৫০৬ ধারার উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে মামলার সুনির্দিষ্ট নম্বর, এজাহার গ্রহণের সময়, তদন্ত কর্মকর্তার পরিচয়, বর্তমান তদন্তের অবস্থা, আসামিদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ এবং মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য মূল নথি ও পুলিশের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
নাসিমার অভিযোগ, মামলা করেও তিনি প্রত্যাশিত বিচার পাননি। তাঁর হারানো সম্পদ উদ্ধার হয়নি এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন নাগরিক থানায় অভিযোগ করার পরও যদি দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন, তাহলে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কে নেবে?
এ ক্ষেত্রে তদন্তের অগ্রগতি, সম্ভাব্য বিলম্বের কারণ, মালামাল উদ্ধারে নেওয়া পদক্ষেপ এবং অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানা জরুরি। পুলিশি অবহেলা বা পক্ষপাতের অভিযোগ থাকলে তা-ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
সাধারণ ডায়েরি: মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
নাসিমা আক্তারের দেওয়া সাধারণ ডায়েরির অনুলিপিতে ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ এবং জিডি নম্বর ১৪৬ উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ১টা ২৩ মিনিটে মামলা তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গে গালিগালাজ এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ বর্ণিত হয়েছে।
নাসিমার দাবি, এ ঘটনার পর থেকে তাঁর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, নিজের অভিযোগের বিচার চাইতে গিয়ে তাঁকে আবারও বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ডায়েরির বক্তব্য যাচাই, হুমকির ঘটনার সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মামলার বাদী বা সাক্ষীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকলে তা মূল মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে অভিযোগটি আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
‘আমার অপরাধ কী? আমি তো শুধু আমার সম্পদের হিসাব চেয়েছি’
নাসিমা আক্তারের কথায় উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, বিশ্বাসভঙ্গের আশঙ্কা এবং বিচার না পাওয়ার গভীর বেদনা।
তিনি বলেন, “আমি প্রায় ২৪ বছর বিদেশে পরিশ্রম করেছি। আমার ঘরবাড়ি, জমিজমা ও যা কিছু আছে, সবই কষ্ট করে অর্জন করেছি। বাবার মৃত্যুর পর দেশে ফিরে নিজের বাড়িতে শান্তিতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আজ আমি নিজের বাড়ি নিয়েই আতঙ্কে আছি।”
তাঁর অভিযোগ, “আমার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমি মামলা করেছি। আমার স্বর্ণের চেইন, টাকা, মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারানোর কথা জানিয়েছি। এরপরও যদি সেগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা না হয়, যদি আমি নিরাপত্তা না পাই, তাহলে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি কোথায় যাব?”
তিনি আরও বলেন, “আমি কারও সম্পদ চাই না, কারও ক্ষতি চাই না। আমি শুধু আমার নিজের জিনিসপত্র ফিরে পেতে চাই। যারা অন্যায় করেছে বলে আমি অভিযোগ করেছি, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়। আমি চাই, আমার পরিবার যেন আর ভয়ে দিন কাটাতে না হয়।”
নাসিমার এই বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন হলেও তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা এবং নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বিবেচনা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
পুলিশ কমিশনারের কাছে বিশেষ আবেদন
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লুণ্ঠিত বলে অভিযোগ করা মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে নাসিমা আক্তার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাঁর আবেদন, মামলার তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হোক, প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তদারকিতে তদন্ত পরিচালিত হোক, নিখোঁজ সম্পদ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তা যাচাই করা হোক।
তিনি আরও চান, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে তাঁর পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হোক এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হোক।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে নাসিমা আক্তার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাঁর বক্তব্য, একজন প্রবাসী নারী দেশের বাইরে থেকে বৈধ উপায়ে পরিশ্রম করে সম্পদ অর্জন করেন দেশের মাটিতে নিরাপদে বসবাস করার আশায়। সেই নারী যদি নিজের বাড়িতে হামলার অভিযোগ তুলে মামলা করার পরও সম্পদ উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তাঁর আবেদন, কোনো ব্যক্তিগত প্রভাব, পরিচয় বা ক্ষমতার কারণে যেন তদন্ত বাধাগ্রস্ত না হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।
বিচার চাই, নিরাপত্তা চাই, চাই আইনের শাসন
নাসিমা আক্তারের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া। কিন্তু তাঁর উত্থাপিত প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই: একজন নারী নিজের বাড়িতে নিরাপদে থাকবেন কীভাবে? অভিযোগ জানানোর পর তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে? হারানো সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তিনি জানবেন কীভাবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হলে প্রয়োজন তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা, প্রমাণভিত্তিক আইন প্রয়োগ এবং অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ।
নাসিমা আক্তারের আকুতি—“আমি প্রতিশোধ চাই না, বিচার চাই। আমি কারও ক্ষতি চাই না, আমার নিজের সম্পদ ফিরে পেতে চাই। আমি শুধু চাই, নিজের দেশে যেন ভয় ছাড়া বাঁচতে পারি।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে, মামলার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন প্রবাসী নারীর এই আর্তি যেন কাগজের পাতায় আটকে না থাকে; বরং তা যেন নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগে রূপ নেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here