নেতৃত্বের আসনে নতুন মুখ, প্রত্যাশার আকাশে নতুন স্বপ্ন

0
37

কামাল উদ্দিন: নির্যাতিত সাংবাদিকের শেষ আশ্রয় হোক সাংবাদিক সংগঠন, সত্যের পক্ষে উচ্চারিত হোক ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর
একটি নির্বাচন শেষ হয়, কিন্তু একটি নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হয় নির্বাচনের পর। পদ-পদবির আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন, সহকর্মীদের ভালোবাসা ধারণ এবং দায়িত্বের প্রতিটি মুহূর্তে সংগঠনের স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার মধ্যেই নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে।
সাংবাদিকতা এমন এক পেশা, যেখানে প্রতিদিন সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়, সত্যের সন্ধানে ছুটতে হয়, কখনো ক্ষমতার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করতে হয়, আবার কখনো নিজের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে মানুষের কথা তুলে ধরতে হয়। এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাহস, সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং বিবেকের নিরন্তর তাড়না। একজন সাংবাদিকের হাতে থাকা কলম কিংবা কাঁধে ঝোলানো ক্যামেরা শুধু পেশাগত উপকরণ নয়; এগুলো সমাজের অন্যায়, অনিয়ম, বৈষম্য ও অসংগতির বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণের শক্তিশালী মাধ্যম।
সেই সাংবাদিকদের সম্মিলিত অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরএ) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্প্রতি উৎসবমুখর, আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে সংগঠনের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রত্যাশা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক সাংগঠনিক পরিবেশের পরিচায়ক।
নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে সোহাগ আরেফিন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাদের রাজু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. রুবেল নির্বাচিত হয়েছেন। পাশাপাশি সিনিয়র সহসভাপতি, সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রত্যেক সদস্যের জন্য রইল আমার আন্তরিক শুভকামনা। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতায় সিআরএ আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও গ্রহণযোগ্য একটি সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশা রাখি।
নেতৃত্বের সৌন্দর্য পদে নয়, দায়িত্ব পালনের মহত্ত্বে
একটি সংগঠনের নেতৃত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে সম্মানের বিষয়, কিন্তু সেই সম্মানের সঙ্গে যুক্ত থাকে বহুমাত্রিক দায়িত্ব। নির্বাচনে জয়ী হওয়া নেতৃত্বের প্রাথমিক স্বীকৃতি, আর সদস্যদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া নেতৃত্বের চূড়ান্ত সাফল্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর কে কত বড় পদে অধিষ্ঠিত হলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কে কতটা আন্তরিকভাবে সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ালেন।
আমি মনে করি, সিআরএর নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ঐক্য সুদৃঢ় করা, সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় একটি কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা।
কোনো সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেখানে মতের ভিন্নতা থাকলেও লক্ষ্য থাকে অভিন্ন। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, পেশাগত প্রতিযোগিতা কিংবা ক্ষুদ্র স্বার্থ যেন কখনো বৃহত্তর সাংবাদিক সমাজের ঐক্যকে দুর্বল করতে না পারে। নির্বাচনে যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন, তাঁদের দায়িত্ব শুধু নিজেদের সমর্থকদের প্রতিনিধিত্ব করা নয়; বরং যাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, যাঁরা ভোট দিয়েছেন, এমনকি যাঁদের মতামত ভিন্ন ছিল, তাঁদের প্রত্যেককে সমান মর্যাদায় সংগঠনের অংশ হিসেবে ধারণ করা।
কারণ নেতৃত্বের প্রকৃত শক্তি সংখ্যায় নয়, আস্থায়; কর্তৃত্বে নয়, দায়িত্বশীলতায়; আর আনুষ্ঠানিক পরিচয়ে নয়, কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতায়।
নির্যাতিত সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ানোই হোক প্রথম অঙ্গীকার
সাংবাদিক সমাজের সবচেয়ে বড় বেদনার জায়গা হচ্ছে, সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। কখনো সংবাদ প্রকাশের কারণে হুমকি, কখনো শারীরিক নির্যাতন, কখনো মিথ্যা মামলা কিংবা আইনি হয়রানি, আবার কখনো চাকরিচ্যুতি, বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে তাঁদের দিন কাটাতে হয়।
আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় বিপদের মুহূর্তে একজন সাংবাদিক নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে করেন। যাঁর কলমে অন্যের দুঃখ, দুর্দশা ও অসহায়ত্বের কথা প্রতিদিন উঠে আসে, নিজের বিপদের দিনে সেই সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ কিংবা প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এই বাস্তবতায় আমি সিআরএর নবনির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে বিশেষভাবে প্রত্যাশা করি, তাঁরা যেন নির্যাতিত, নিপীড়িত, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত সাংবাদিকদের পাশে থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার গ্রহণ করেন।
কোনো সাংবাদিক অন্যায়ের শিকার হলে তাঁর পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজন হলে আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে। সাংবাদিকের রাজনৈতিক অবস্থান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সংবাদমাধ্যমের পরিচয় কিংবা মতপার্থক্য বিবেচনা না করে পেশাগত অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সংগঠনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি, যে সংগঠনের দরজা একজন নির্যাতিত সাংবাদিকের জন্য সব সময় খোলা থাকে, যে সংগঠন বিপদের মুহূর্তে সদস্যের পাশে দাঁড়াতে পারে, সেই সংগঠনই প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকদের আস্থার ঠিকানা হয়ে ওঠে।
সিআরএর নতুন নেতৃত্বের কাছে আমার প্রত্যাশা, কোনো সাংবাদিক যেন নির্যাতিত হয়ে বিচার চাইতে গিয়ে আরও একবার একাকিত্বের শিকার না হন। সাংবাদিকের বিপদে সংগঠন হবে তাঁর সাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগঠন হবে তাঁর সম্মিলিত কণ্ঠস্বর।
আধুনিক সাংবাদিকতা ও সময়ের পরিবর্তিত বাস্তবতা
বর্তমান পৃথিবীতে সাংবাদিকতার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সংবাদপত্রের পাশাপাশি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন, মাল্টিমিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি গণমাধ্যমের পরিসরকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
একজন সাংবাদিককে এখন শুধু সংবাদ সংগ্রহ ও লেখার দক্ষতা থাকলেই চলে না; তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, তথ্যচিত্র নির্মাণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কেও দক্ষ হতে হয়।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সিআরএর নতুন নেতৃত্বের কাছে আমার প্রত্যাশা, সংগঠনটি যেন কেবল প্রচলিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং আধুনিক সাংবাদিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বিশেষ করে নবীন সাংবাদিকদের জন্য প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সাংবাদিকতার ইতিহাস, নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাগত মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
একই সঙ্গে নারী সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
সাংবাদিক সংগঠন হবে ক্ষমতার নয়, বিবেকের প্রতিষ্ঠান
আমার দীর্ঘদিনের লেখালেখি, সাংবাদিকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা এবং দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় উপলব্ধি করেছি—একটি সাংবাদিক সংগঠনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সদস্যদের বিশ্বাসযোগ্যতা।
কোনো সংগঠন যদি কেবল অনুষ্ঠান, সংবর্ধনা, সভা-সমাবেশ কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে, তাহলে সময়ের সঙ্গে তার সাংগঠনিক গুরুত্ব কমে যেতে পারে। কিন্তু যে সংগঠন সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করে, পেশাগত অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকে এবং জনস্বার্থের প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, সেই সংগঠন মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।
সাংবাদিক সংগঠন কখনো ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত ন্যায়, সত্য, মানবিকতা ও পেশাগত সংহতির প্রতিষ্ঠান। সংগঠনের নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা থাকবে দায়িত্ব পালনের জন্য, পরিচিতি থাকবে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য এবং সাংগঠনিক শক্তি থাকবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত অবস্থান গ্রহণের জন্য।
সিআরএর নবনির্বাচিত নেতৃত্ব যদি এই মূল্যবোধগুলো ধারণ করতে পারেন, তাহলে সংগঠনটি শুধু চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজেই নয়, বৃহত্তর গণমাধ্যম অঙ্গনেও একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
নবনির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতি কিছু প্রত্যাশা
আমি মনে করি, নতুন কমিটির কার্যক্রমে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
প্রথমত, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় একটি কার্যকর সহায়তা সেল গঠন করা।
দ্বিতীয়ত, নির্যাতিত, অসুস্থ, অসচ্ছল ও বিপদগ্রস্ত সাংবাদিকদের জন্য একটি কল্যাণ তহবিল গড়ে তোলা।
তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অন্যায়, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত সাংগঠনিক প্রতিবাদ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা।
চতুর্থত, প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ধারাবাহিক আয়োজন করা।
পঞ্চমত, আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
ষষ্ঠত, নারী সাংবাদিকদের নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
সপ্তমত, সংগঠনের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখা।
অষ্টমত, চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠন, প্রেসক্লাব ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিআরএ একটি কার্যকর, মানবিক ও সময়োপযোগী সংগঠন হিসেবে নতুন পরিচিতি লাভ করতে পারবে।
ঐক্যের শক্তিতে এগিয়ে যাক সিআরএ
একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকবে, পেশাগত অবস্থানের ভিন্নতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সাংবাদিকের অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে সবাইকে একই কাতারে দাঁড়াতে হবে।
একজন সাংবাদিকের কলম অন্য সাংবাদিকের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। একজন সাংবাদিকের বিপদ অন্য সাংবাদিকের উদাসীনতার কারণ হতে পারে না। বরং একজনের দুর্দিনে অন্যজনের এগিয়ে আসাই হওয়া উচিত সাংবাদিকতার প্রকৃত ভ্রাতৃত্ববোধ।
আমি চাই, সিআরএর নতুন নেতৃত্ব এমন একটি পরিবেশ তৈরি করবেন, যেখানে প্রবীণ সাংবাদিক সম্মান পাবেন, নবীন সাংবাদিক উৎসাহিত হবেন, নারী সাংবাদিক নিরাপদ বোধ করবেন এবং নির্যাতিত সাংবাদিক আশ্রয় ও সাহস খুঁজে পাবেন।
নেতৃত্বের আসনে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে আপন করে নিন। নির্বাচনের সময়কার বিভাজন ভুলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলুন। কারণ একটি সংগঠনের শক্তি তার সভাপতির একক সিদ্ধান্তে নয়, বরং প্রতিটি সদস্যের অংশগ্রহণ, সম্মান ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিহিত।
অভিনন্দন, শুভকামনা ও প্রত্যাশার নতুন অধ্যায়
পরিশেষে আবারও চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত সভাপতি সোহাগ আরেফিন, সিনিয়র সহসভাপতি রাজু আহমেদ, সহসভাপতি আমিনুল হক শাহীন, সাধারণ সম্পাদক কাদের রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম আর মিলন ও রিদুয়ান হৃদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুবেলসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সকল কর্মকর্তা ও কার্যনির্বাহী সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।
নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফারুক ইকবাল এবং নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের প্রতিও জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার।
আমি একজন লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতার আলোকে মনে করি, সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় মর্যাদা মানুষের আস্থা অর্জন করা। আর সাংবাদিক সংগঠনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে সেই আস্থা রক্ষা করা।
সিআরএর নবনির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে আমার প্রত্যাশা, আপনারা এমন কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন, যাতে আগামী দিনে এই সংগঠনের পরিচয় শুধু একটি নির্বাচিত কমিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানবিক সহমর্মিতার একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
আপনাদের পথচলায় সাফল্য আসুক। সংগঠনের প্রতিটি উদ্যোগ হোক কল্যাণমুখী। আপনাদের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমাজ আরও ঐক্যবদ্ধ হোক। সত্যের পক্ষে উচ্চারিত হোক সাহসী কণ্ঠস্বর। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাক সিআরএ।
মনে রাখবেন, সাংবাদিকের পরিচয় তাঁর পদে নয়, তাঁর কর্মে; সংগঠনের পরিচয় তার কার্যালয়ে নয়, তার মানবিকতায়; আর নেতৃত্বের সার্থকতা নির্বাচনে বিজয়ে নয়, সহকর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে থাকার অঙ্গীকারে।
সাংবাদিকের কলম হোক সত্যের শক্তি, সংগঠন হোক নির্যাতিতের আশ্রয়, আর ঐক্য হোক সাংবাদিক সমাজের সবচেয়ে বড় অর্জন।
সিআরএর নবযাত্রা সফল ও অর্থবহ হোক। নবনির্বাচিত সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।
 
লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক
সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিনিয়র্স প্রেস ক্লাব
সদস্য, পেন ইন্টারন্যাশনাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here