বাকলিয়ায় আধুনিক লাইভ বেকারি ‘কে এম কে ফুড ভ্যালী’র শুভ উদ্বোধন

0
27

গ্রাহকের চোখের সামনেই তৈরি হবে পছন্দের খাবার, টাটকা খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির নতুন উদ্যোগ; আধুনিক বেকারি শিল্পের রূপকার মো. কামাল উদ্দিনের গুণগত মান ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ
চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম জনবসতিপূর্ণ এলাকা বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডে বাকলিয়া বিদ্যুৎ অফিসের সন্নিকটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘কে এম কে ফুড ভ্যালী’। টাটকা খাবার, রুচিসম্মত পরিবেশনা, দক্ষ কারিগরের হাতে তাৎক্ষণিক খাদ্য প্রস্তুত এবং গ্রাহকের সামনেই তৈরি করে বিক্রির অভিনব ধারণা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির এই পথচলা স্থানীয় ব্যবসা ও খাদ্যসেবার জগতে একটি নতুন সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজ রবিবার আসরের নামাজের পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধনী আয়োজন শুরু হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ, প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সবার মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে আলোচনা সভা, অতিথিদের বক্তব্য ও অনুভূতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকাবাসীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। নতুন এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব, লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক এবং চট্টগ্রাম বেকারি মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, আধুনিক বেকারি শিল্পের রূপকার মো. কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, হামিদ হোসাইন, মাসুদ রানা, প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ডাক্তার আনোয়ার হোসেন মানিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আধুনিক লাইভ বেকারি ধারণায় নতুনত্ব
‘কে এম কে ফুড ভ্যালী’র অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর লাইভ বেকারি ব্যবস্থা। প্রচলিত বেকারি ব্যবসায় যেখানে আগে থেকে তৈরি খাবার প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়, সেখানে এই প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা হচ্ছে গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী তাঁর সামনেই খাবার তৈরি করে সরাসরি সরবরাহ করা। অর্থাৎ নগদ তৈরি, নগদ বিক্রি। গ্রাহক নিজের পছন্দের খাবার নির্বাচন করবেন, দক্ষ কারিগরদের হাতে সেই খাবার প্রস্তুত হতে দেখবেন এবং তৈরি হওয়ার পরপরই তা গ্রহণ করতে পারবেন।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে খাবারের সতেজতা, প্রস্তুত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের পছন্দকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু নাশতা, বেকারি পণ্য ও মুখরোচক খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুতের পাশাপাশি খাবারের পরিবেশনা ও মানের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
বর্তমান সময়ে নগরজীবনে মানুষের ব্যস্ততা বাড়ছে। একই সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস, রুচি ও খাবারের মান নিয়ে সচেতনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, তরুণ, পরিবার এবং কর্মব্যস্ত মানুষের কাছে টাটকা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তবতায় বাকলিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আধুনিক লাইভ বেকারি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
কামাল উদ্দিনের বক্তব্যে খাদ্যের মান, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও সরকারি অনুমোদনের ওপর গুরুত্ব
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মো. কামাল উদ্দিন আধুনিক বেকারি শিল্পের সম্ভাবনা, খাদ্য উৎপাদনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বেকারি শিল্প শুধু একটি ব্যবসা নয়, এটি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাত। তাই এই শিল্পে উদ্যোক্তাদের দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে। খাবার দেখতে সুন্দর হলেই কিংবা স্বাদে আকর্ষণীয় হলেই সেটিকে মানসম্মত বলা যায় না। খাবারের উপকরণ, উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করাই হচ্ছে প্রকৃত মানের পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, ‘কে এম কে ফুড ভ্যালী’ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। গ্রাহকের সামনে খাবার তৈরি ও বিক্রির যে ধারণা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছে, তা নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। তবে এই আকর্ষণকে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যে রূপ দিতে হলে খাদ্যের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। প্রতিটি খাদ্যপণ্য তৈরিতে নিরাপদ ও মানসম্মত কাঁচামাল ব্যবহার করতে হবে। উৎপাদনস্থল, রান্নার সরঞ্জাম, পরিবেশন ও সংরক্ষণের জায়গা সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
কামাল উদ্দিন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন, নিবন্ধন এবং খাদ্যনিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ গ্রহণ করে খাদ্যের মান পরীক্ষার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। কারিগর ও কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তার প্রকৃত সাফল্য শুধু কত বেশি পণ্য বিক্রি হলো, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং কতটা আস্থা ও বিশ্বাস তিনি গ্রাহকের মনে তৈরি করতে পারলেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন গ্রাহক একবার খাবার কিনে সন্তুষ্ট হলে তিনি আবার আসবেন, অন্যদেরও উৎসাহিত করবেন। এভাবেই একটি প্রতিষ্ঠান মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করতে পারে।
তিনি ‘কে এম কে ফুড ভ্যালী’ কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ কারিগর, প্রশিক্ষিত সেবাকর্মী, স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদনব্যবস্থা এবং আকর্ষণীয় পরিবেশনার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। খাবারের স্বাদ ও মানের পাশাপাশি মূল্যও যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশা
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাকলিয়া চট্টগ্রাম নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন কর্মচাঞ্চল্য রয়েছে। এ ধরনের এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠা স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তাঁরা মনে করেন, একটি প্রতিষ্ঠান শুধু পণ্য বিক্রি করেই তার দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, মানসম্মত সেবা প্রদান এবং ভোক্তার আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়েই একটি প্রতিষ্ঠান সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে একঝাঁক দক্ষ কারিগর ও সেবাকর্মী নিয়ে ‘কে এম কে ফুড ভ্যালী’র যাত্রা শুরু হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারলে আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্যোক্তার প্রত্যয় ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ডাক্তার মানিক উপস্থিত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে সামনে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। গ্রাহকের সন্তুষ্টি, পণ্যের মান এবং উন্নত সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও ‘কে এম কে ফুড ভ্যালী’র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা বলেন, নতুন কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হওয়া শুধু একজন উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরণ নয়, বরং একটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করার সুযোগ। তবে সেই উদ্যোগের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করবে সেবার মান, ব্যবসায়িক সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপর।
আস্থাই হোক প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় পরিচয়
একটি নতুন প্রতিষ্ঠান উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে তার পথচলা শুরু করতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘদিনের সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানসম্মত সেবা। খাদ্য মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। তাই খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক উদ্যোক্তার প্রথম অঙ্গীকার হওয়া উচিত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা।
‘কে এম কে ফুড ভ্যালী’ যদি টাটকা খাবার তৈরির অভিনব ধারণার পাশাপাশি নিরাপদ উপকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, দক্ষ কারিগর, প্রশিক্ষিত কর্মী, ন্যায্যমূল্য এবং সরকারি বিধিবিধান অনুসরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তাহলে বাকলিয়ার খাদ্যসেবার জগতে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
মো. কামাল উদ্দিনের পরামর্শ ও উপস্থিত বিশিষ্টজনদের প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে নতুন এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ব্যবসার মূল লক্ষ্য শুধু মুনাফা অর্জন নয়, মানুষের আস্থা অর্জনও। সেই আস্থার ভিত্তি হোক বিশুদ্ধ খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ন্যায্য মূল্য এবং আন্তরিক গ্রাহকসেবা।
বাকলিয়ার মানুষের প্রত্যাশা, ‘কে এম কে ফুড ভ্যালী’ তার নামের মতোই খাদ্যসেবার একটি আকর্ষণীয় ও নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে উঠবে। নতুন এই উদ্যোগের সফলতা, সমৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী অগ্রযাত্রা কামনা করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here