
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘কে সি দে ইনস্টিটিউট (অফিসার্স ক্লাব)’-এর নতুন নির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়েছে। তিন বছর মেয়াদী এই নতুন কমিটি ঘিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন প্রত্যাশার আবহ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অঙ্গনে দায়িত্বশীলতা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে আসা এই দুই কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি ও প্রাণসঞ্চারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
গত ২ মে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এই নির্বাচন। নির্বাচনে সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠানটির গণতান্ত্রিক চর্চা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচনে বিজয়ীরা গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক হৃদ্যতাপূর্ণ মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন। এ সময় দুই কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্লাবের উপদেষ্টা, সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘কে সি দে ইনস্টিটিউট’ শুধু একটি অফিসার্স ক্লাব নয়—এটি চট্টগ্রামের প্রশাসনিক পরিবারে সৌহার্দ্য, সংস্কৃতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক ঐতিহ্যবাহী বন্ধন। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাংস্কৃতিক বিকাশ, ক্রীড়া চর্চা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ক্লাবের ঐতিহ্য ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ক্লাবকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, “এই ক্লাব আমাদের সবার। এখানে জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্মান ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো।” সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, “কে সি দে ইনস্টিটিউটের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সদস্যদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।” শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ‘কে সি দে ইনস্টিটিউট’ অতীতের গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে আরও গতিশীল ও সদস্যবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও পারস্পরিক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে শত বছরের পথচলায় ‘কে সি দে ইনস্টিটিউট’ আজও চট্টগ্রামের প্রশাসনিক অঙ্গনে এক অনন্য নাম। নতুন নির্বাহী পরিষদের হাত ধরে সেই পথচলা আরও বেগবান হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।

