
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কমোডর মাহমুদুল মালেক। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তাঁর সফল নেতৃত্ব ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান চেয়ারম্যানের কর্মকা- নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সরকারের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সব দিক বিবেচনায় আলোচনায় উঠে এসেছে কমোডর মাহমুদুল মালেকের নাম। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে দেশের অনেক খাতে স্থবিরতা থাকলেও বিএসসি একের পর এক সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে দীর্ঘদিন লোকসান ও সীমাবদ্ধতায় থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিএসসি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে, যা গত ৫৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ধারাবাহিকভাবে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে নিট মুনাফা দাঁড়ায় ৩০৬ কোটি টাকা, যা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নজির স্থাপন করে কমোডর মালেক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৪৭৫ কোটি টাকা ফেরত দেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি আরও ২০৩ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এটি একটি বিরল ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শুধু আর্থিক সাফল্য নয়, বহর সম্প্রসারণেও নতুন ইতিহাস গড়েছে বিএসসি। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো নিজস্ব অর্থায়নে ৬৩ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতার দুটি পণ্যবাহী জাহাজ সংগ্রহ করেছে। এছাড়া সরকারি অর্থায়নে দুটি মাঝারি আকারের তেলবাহী জাহাজ এবং আরও একটি পণ্যবাহী জাহাজ সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২৪তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স ও ৮৯-বি ব্যাচের কর্মকর্তা কমোডর মাহমুদুল মালেক তাঁর কর্মজীবনে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক, নৌ সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক এবং সাবমেরিন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বেই বিদেশি সহায়তা ছাড়াই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন প্রথমবারের মতো সমুদ্রে পরিচালনা ও সফলভাবে ডুব দিতে সক্ষম হয়। পেশাগত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাগত যোগ্যতায়ও তিনি অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ যুদ্ধ কলেজ, পাকিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি সফলতার সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করেন। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধ বিষয়ক কোর্সে প্রথম স্থান অর্জন করে “সেরা কৃতিত্বপূর্ণ স্নাতক” হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর পেশাগত দক্ষতা, সৎ নেতৃত্ব, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি অঙ্গীকার তাঁকে একজন দূরদর্শী ও সফল কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁদের বিশ্বাস, তাঁর নেতৃত্বে বিএসসি ভবিষ্যতে আরও নতুন সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করবে। চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানিয়েছেন, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হলে কমোডর মাহমুদুল মালেককে দায়িত্ব দেওয়া হোক। তাঁদের মতে, তাঁর মেধা ও অভিজ্ঞতায় বিএসসির মতো একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানকে কয়েক বছরের মধ্যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে, যা স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত অন্য কোনো ব্যবস্থাপনা পরিচালক করে দেখাতে পারেননি।

