**রাজশাহী সরবরাহ করছে দেশের ৪০ শতাংশ মাছ**

0
181

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ময়মনসিংহে যতই মাছ চাষ হয়, তাতে রাজশাহীর অবদানও কম নয়। রাজশাহী থেকে দেশের বাজারে প্রায় ৪০ শতাংশ মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মৎস্য অনুষদ আয়োজিত **আন্তর্জাতিক মৎস্য সম্মেলন ও প্রদর্শনী-২০২৫** অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন দুটি উপায়ে হয়—প্রাকৃতিক জলাশয় যেমন নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড় থেকে এবং মৎস্য চাষের মাধ্যমে। উভয় ক্ষেত্রই গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে অ্যাকুয়াকালচারের কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী দামে মাছ পেতে পারছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রাকৃতিকভাবে ধরা মাছ অবহেলা করা হবে। তিনি আরও বলেন, মাছ রপ্তানির গুরুত্ব অপরিসীম। যেসব দেশে আমাদের মাছ রপ্তানি হবে, সেখানে বাঙালিরাও রয়েছে। প্রবাসীরা আমাদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান, তাই তাদেরও যেন যথাযথ মানের মাছ পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কার্পজাতীয় মাছের রপ্তানি বাড়ানো উচিত। মৎস্য চাষের ফিডের নিরাপত্তা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নিরাপদ ফিড না হলে উৎপাদিত মাছ ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অনিরাপদ ফিড নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মাছের জন্য নিরাপদ ওষুধ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মাছ উৎপাদন ঝুঁকিতে রয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পুকুরের মাছ মরার ঘটনা বাড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ফরিদা আখতার আরও বলেন, মৎস্যচাষ নীতি প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। নীতি থাকলে চাষির করণীয় স্পষ্ট হবে এবং সমস্যার সমাধান সহজ হবে। ইলিশ সংরক্ষণ এবং কৃষিজমি ক্ষতি না করে অনাবাদি জমিতে পুকুর খনন করে মৎস্যচাষ করার আহ্বান তিনি জানান। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের ডিন ও সামিট আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডলের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মৎস্যচাষি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here