
আজকের ব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত খাবার, তেল–চর্বি বেশি খাওয়া আর ব্যায়ামের অভাব—সব মিলিয়ে দেহে নীরবে বাড়তে থাকে কোলেস্টেরল। সমস্যা হলো, এই বাড়তি কোলেস্টেরল ধমনিতে চর্বি জমিয়ে রক্তপ্রবাহ ধীর করে দেয়, অথচ আমরা অনেক সময় টেরই পাই না। আর ঠিক তখনই বাড়ে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। তবে শরীর আগেই কিছু সংকেত দেয়—যেগুলো লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় কোলেস্টেরল বাড়ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো— ১. পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি হাঁটার সময় কিংবা বিশ্রামে থেকেও পায়ে ভারি ভাব, ব্যথা বা হঠাৎ ক্র্যাম্প হলে সতর্ক হোন। এটি ধমনীতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত, যা সাধারণত উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে হয়। ২. বুকে ব্যথা বা চাপ** কোলেস্টেরল জমে ধমনির পথ সংকুচিত হলে বুকের মাঝামাঝি অংশে চাপ, জ্বালা বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি হৃদ্রোগ বা হার্ট অ্যাটাকের আগাম সংকেত। ৩. গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে শরীরের উপরের অংশে অস্বাভাবিক ব্যথা বা শক্তভাব দেখা দেয়। গলা, চোয়াল ও কাঁধে ব্যথা অনেক সময় পেশির ব্যথা মনে হলেও এটি বাড়তি কোলেস্টেরলের সতর্কবার্তা হতে পারে। ৪. হাত–পায়ে অসাড়তা বা ঝিনঝিনি হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা, ঠান্ডা অনুভব করা বা পায়ে নীলচে ভাব দেখা দেওয়া—এগুলোও উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণ। সিঁড়ি উঠলে দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিও ইঙ্গিত দেয় রক্তপ্রবাহে সমস্যা হচ্ছে। ৫. চোখের চারপাশে হলুদ দাগ চোখের চারপাশে হলুদ বলয় বা হলদেটে পুরু স্তর তৈরি হলে বুঝতে হবে শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমেছে। এটি বিপজ্জনক পর্যায়ের সংকেতও হতে পারে। করণীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার, ব্যায়াম এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি।

